জাতীয়শিরোনাম

দুদক ক্ষমতাসীনদের প্রতি সদয়, বিরোধীদের প্রতি নির্দয়: টিআইবি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয় উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জানিয়েছে, এই সংস্থা বিরোধী দলের রাজনীতিকদের হয়রানি এবং ক্ষমতাসীন দল ও জোটের রাজনীতিকদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ: বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর একটি ফলো-আপ গবেষণা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এসময় টিআইবির ) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসলে স্বাধীন নয়, এর স্বাধীনতা কেবল কাগজ ভিত্তিক। দুর্নীতির ঘটনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি নিরপেক্ষ আচরণ দিতে সমর্থ হয়নি।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, দুদক পক্ষপাতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সবার বিরুদ্ধে সমানতালে পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। তথ্যদাতাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা হচ্ছে– যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের বেশিরভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত। তবে কয়েকজন রয়েছেন যারা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য।
দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সাড়া প্রদানের হারও কম বলেছে টিআইবি। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৮ সালে ৪৭ হাজার ৫৪৯টি অভিযোগের মধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি অভিযোগ (৬.৭৫%) অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এই হার ৬৬ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা।
দুদকের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগদান প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button