উপমহাদেশশিরোনাম

দিল্লিতে করোনায় ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

দিল্লিতে করোনায় মৃত্যু লাগামছাড়া। গত কয়েক দিন ধরে ১০০-র ওপর মারা যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টায়।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সোমবারের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৫ জনের ওপর মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, গোটা ভারতে যত মৃত্যু হয়েছে, তার একটা বড় অংশই কিন্তু রাজধানী শহরে।
মঙ্গলবার সকালের রিপোর্ট অনুসারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ভারতে ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দিল্লিতেই মারা গেছে ১২১ জন। আগের দিনও তা ছিল একই, যদিও একই সময়ে পুরো ভারতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেছে। দিল্লিতে সংক্রমণ কমার হার অতি অল্প।
আগের দিন দিল্লিতে সংক্রমণের হার ছিল ৬ হাজার ৭৪৬, মঙ্গলবারের হিসেব মতে আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৪ জন। ইতিমধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৮৫১২ জনের।
স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে বিগত ১২ দিনের মধ্যে ৬ বার দৈনিক মৃতের সংখ্যা ১০০-র গণ্ডি অতিক্রম করেছে। শনিবার ১১১ জন কভিডের বলি হয়েছেন। তার আগে শুক্রবারই মারা যান ১১৮ জন। ১৮ নভেম্বর দিল্লিতে একদিনে রেকর্ড ১৩১ মৃত্যু, সেই সঙ্গে মোট আক্রান্ত ছাড়ায় ৫ লাখ। এ পর্যন্ত এটাই রাজধানীতে সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা। ১২ নভেম্বর মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, করোনাভাইরাস ‘তৃতীয় ঢেউ’ দেশটির রাজধানীতে ধাক্কা দেওয়ার আগে পর্যন্ত দিল্লিতে মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ফলে, সংক্রমণ বাড়লেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈনকে।
দিল্লি সরকারের বক্তব্য ছিল, কভিড টেস্ট বেশি বেশি করে হওয়ার কারণেই দিল্লিতে পজিটিভ কেস বেশি। তাদের ভরসার জায়গা ছিল দৈনিক সুস্থতার হার। কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।
এ দিকে ভারতের দৈনিক করোনা সংক্রমণ গত ৫ দিন ৪৫ হাজারে আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। মঙ্গলবার তা একলাফে কমে ৩৮ হাজারের নিচে। পাশাপাশি দৈনিক মৃত্যুও গত ৫ দিন ধরে হচ্ছিল ৫০০-র বেশি। আজ তা নেমেছে ৫০০-র নিচে। সঙ্গে কমেছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৭৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত হলেন ৯১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪০ জন। এই সংখ্যক আক্রান্ত নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান ভারতের। প্রথম স্থানে থাকা আমেরিকার মোট আক্রান্ত ১ কোটি ২৪ লাখ। তুলনায় তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে ৬০ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button