sliderবিবিধশিরোনাম

ড. খলিলুর রহমান: কূটনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

পতাকা ডেস্ক : ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১৯৫৪ সালের ১ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী ড. খলিলুর রহমান কর্মজীবনের শুরু থেকেই মেধা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘ সময় কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

🎓 শিক্ষাজীবন

ড. খলিলুর রহমানের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা করেন। ১৯৭৭ সালে অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি বিশ্বখ্যাত Tufts University-এর Fletcher School of Law and Diplomacy এবং Harvard University-এর Kennedy School of Government-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে আইন ও কূটনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রির পাশাপাশি অর্থনীতিতে পিএইচডি রয়েছে। অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই সমন্বিত শিক্ষাগত ভিত্তি পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

🇧🇩 বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ও কূটনৈতিক জীবন

ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন ও কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন অত্যন্ত মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে। ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন।

কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮০-এর দশকে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের Economic and Financial Committee-তেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। একই সময়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন স্বার্থ ও দাবিদাওয়া আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

🌍 জাতিসংঘে দীর্ঘ কর্মজীবন

ড. খলিলুর রহমানের পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাতিসংঘ।

১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা UNCTAD-এ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

নিউইয়র্ক ও জেনেভায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, উন্নয়ন, বৈশ্বিক বাণিজ্য, দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কাজ করেন।

জাতিসংঘে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তাঁর ব্যাপক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তাঁকে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

🕊️ রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ড. খলিলুর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলির হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পান।

এই দায়িত্বে থেকে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক সমাধান, মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আদায়ের বিষয়ে কাজ করেন।

🛡️ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এই দায়িত্বে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রধান উপদেষ্টাকে সহযোগিতা করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রোহিঙ্গা বিষয়ক দায়িত্বও তিনি একই সময়ে বহাল রাখেন।

🏛️ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্বগুলোর একটি হলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

দলীয় রাজনীতির সক্রিয় কর্মী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘ প্রশাসনিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে একজন টেকনোক্র্যাট ও পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে দেখা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।

🇮🇳 প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

🌏 সার্ক পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম সার্ক (SAARC)।

ড. খলিলুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সার্ককে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি বহুমাত্রিক অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তাঁর দৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

🇺🇳 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি

ড. খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক অর্জনগুলোর একটি হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া।

২০২৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে পরাজিত করেন।

ভোটে ড. খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট পড়েছিল।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করবেন।

তিনি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ফোরামগুলোর একটি।

🏫 শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তিনি East West University প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির Board of Trustees-এর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের গুরুত্ব তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

👨‍👩‍👧‍👧 পারিবারিক জীবন

সরকারি জীবনী অনুযায়ী ড. খলিলুর রহমান বিবাহিত। তাঁর দুই মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনি রয়েছে।

তবে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্যের তুলনায় তাঁর পেশাগত ও আন্তর্জাতিক কর্মজীবন সম্পর্কিত তথ্যই বেশি পাওয়া যায়।

📌 তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সংক্ষেপে এভাবে সাজানো যায়—

১৯৫৪ — জন্মগ্রহণ
১৯৭৭ — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম
১৯৭৯ — বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান
১৯৮০–৮৩ — যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা
১৯৮৩–১৯৯১ — বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন
১৯৯১ — UNCTAD-এ যোগদান
পরবর্তী দুই দশকের বেশি সময় — জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত
২০২৪ — রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ
২০২৫ — জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
২ জুন ২০২৬ — জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের নির্ধারিত সময়

⭐ কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ?

ড. খলিলুর রহমানের বিশেষত্ব হলো তাঁর দেশীয় প্রশাসন, কূটনীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়।

একদিকে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের হয়ে কাজ করেছেন, অন্যদিকে জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

অর্থনীতিতে তাঁর একাডেমিক পটভূমি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে অর্থনৈতিক কূটনীতি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার বিশেষ সক্ষমতা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

🇧🇩 উপসংহার

ড. খলিলুর রহমানের জীবন ও কর্মজীবন বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের একটি দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অধ্যায়। অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে অসাধারণ ফলাফল থেকে শুরু করে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান, জাতিসংঘে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন, রোহিঙ্গা সংকটে নেতৃত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব এবং সর্বশেষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া—প্রতিটি ধাপ তাঁর কর্মজীবনের আলাদা পরিচয় বহন করে।

এর পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তাঁকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং কূটনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন—সেটিই এখন তাঁর দায়িত্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button