শিরোনাম

ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

ঈদের ছুটিতে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ।
কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে নামে যাত্রীদের ঢল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো সুযোগ নেই ঘাট এলাকায়।
বরং করোনা সংক্রমণের শতভাগ ঝুঁকিই যেন তৈরি হচ্ছে নৌরুটে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনস্রোত ঠেকাতে সোমবার (১৮ মে) দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল।
জরুরি প্রয়োজনে মাত্র ১টি ফেরি চললেও সাধারণ যাত্রীদের উঠতে দেয়া হচ্ছে না। গতকাল থেকে তাও ঘূর্ণিঝড়ের জন চলাচল বন্ধ! কাঠালবাড়ী ঘাটে প্রায় তিন শতাধিক পণ্যবাহী পরিবহন ফেরি অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঢাকা থেকে ফেরা বন্ধ হয়নি। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বাড়তে থাকে যাত্রীদের ভিড়। শত শত যাত্রীতে ভরে যায় শিমুলিয়া ফেরি ঘাট।
প্রতিদিনই বেলা বাড়তে থাকলে ফেরিতে পার হতে না পেরে বিকল্প পথ বেছে নেয় যাত্রীরা।
শিমুলিয়া ঘাট থেকে দূরে পুরাতন মাওয়া ঘাটের আশপাশসহ পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রলারে চেপে বসে ঘরমুখো যাত্রীরা। পদ্মা উত্তাল, অনিরাপদ নৌযান! তবুও বাড়ি ফেরা চাই!
বুধবার সকালেও বিকল্প ওই রুটটি দিয়ে যাত্রীরা পদ্মা পার হচ্ছে। তবে সকাল থেকে ঝড়ো বাতাস থাকায় পদ্মা কিছুটা উত্তাল রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই এর মধ্যেও পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাওয়া থেকে বিকল্প নৌরুটে দিয়ে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে দূরে পদ্মা চরে এসে নামছে যাত্রীরা।
বালুচর পায়ে হেঁটে আবার কখনো অটোরিকশায় চরে মহাসড়কে এসে উঠছেন তারা। জীবনের ঝুঁকি আর ঝুঁক্কিঝামেলা মাথায় নিয়ে পদ্মা পার হতে পেরেই স্বস্তি তাদের।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, ‘বুধবার হঠাৎ করেই একটি ট্রলার এসে থামে পদ্মার চরে। তাতে প্রায় অর্ধ শতাধিক যাত্রী। তারা ঢাকা থেকে এসেছেন। এরপর থেকে আজকে বৃহস্পতিবার সকালেও যাত্রীরা আসছেই বিকল্প রুটে।
ফেরি বন্ধ থাকায় ট্রলারে করে পদ্মা পার হচ্ছেন। এপারে এসে চরের মধ্যে তাদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে পায়ে হেঁটে সড়কের দিকে যেতে হয়েছে যাত্রীদের।
পুলিশের ভয়ে শিমুলিয়া ঘাট এড়িয়ে দূরের কোনো এক স্থান থেকে যাত্রী নিয়ে আবার কাঁঠালবাড়ী ঘাটে না এসে পদ্মার চরাঞ্চলে এসে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে এভাবেই বিকল্প পথে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের পদ্মা পার হয়ে আসতে দেখেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা আরও জানায়, এমনিতেই নদী উত্তাল। এভাবে যদি ট্রলারে করে যাত্রীরা নদী পার হতে থাকে তবে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সরেজমিনে কাঁঠালবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিমুলিয়া অংশের পদ্মার কোনো এক স্থান থেকে ট্রলারে করে যাত্রীদের নিয়ে আসা হচ্ছে কাঁঠালবাড়ী প্রান্তে।
বুড়ির খেয়া নামক স্থানসহ নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পদ্মার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। পদ্মা পার হতে ভাড়া হিসেবে গুনতে হচ্ছে ৪শত থেকে ৫শত টাকা। বাড়ি ফেরার তাড়া থেকেই ৫/৬ কিলোমিটারের নৌপথ শতশত টাকা দিয়ে পার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
কয়েকজন যাত্রীদের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, লঞ্চ-স্পিডবোট অনেক দিন ধরেই বন্ধ। ফেরি চলাচল করতো। তাও গত সোমবার দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের তো বাড়ি যেতেই হবে। ঢাকা থেকে ঘাটে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই আবার ফিরে যেতে চাইনি। পরে বিকল্প উপায়ে পদ্মা পার হয়েছি। অনেকেই এভাবে পার হচ্ছে।’
কাঁঠালবাড়ী ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ফেরি চলাচল বন্ধ। তারপরও শিমুলিয়া থেকে ট্রলারে করে যাত্রীরা কাঁঠালবাড়ী এলাকায় এসে নামছে। আমরা মঙ্গলবার চারটি ট্রলার আটক করেছি। মাঝ পদ্মা থেকেও কিছু ট্রলার ফিরিয়ে দিচ্ছি। এবং যাত্রীদের সচেতন ও সতর্ক করছি। ঝুঁকি নিয়ে যাতে পদ্মা পার হতে না পারে সেজন্য আমাদের অভিযান চলছে। নদীপথ অনেক বিস্তৃত। ফলে বিভিন্ন স্থান দিয়ে পার হয়ে চলে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টহল নৌযান নেই। ট্রলার বা স্পিডবোট নিয়ে যেতে হয়। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ঘাট ম্যানেজার আব্দুল হালিম জানান, গত মঙ্গলবার থেকেই ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বুধবার সকালে একটি ফেরিতে সেনাবাহিনী ও কয়েকটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পার করেছি তারপর থেকেই সকল ফেরি বন্ধ আছে এরপর ঘূর্ণিঝড় তো রয়েছেই। এই মুহূর্তে রাতে বা দিনে কোনো ফেরি চালু করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই, বা আসেনি। তবে আমাদের এই ঘাটে পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন বা যাত্রী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় নেই।
সুত্র : দেশ রূপান্তর ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button