Uncategorized

জয় দিয়ে সফর শুরু আফগানদের

২০১৪ সালের পহেলা মার্চের রাতটা কোনোদিন ভুলবে না আফগানিস্তান। সে দিন এশিয়া কাপের ম্যাচে ওয়ানডেতে প্রথমবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েই জয়ের মুখ দেখেছিলো তারা। যা আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিখ্যাত জয়।
দুই বছর পর সেই মাঠেই আরো একটা জয় পেলো তারা। না, এবারের জয় বাংলাদেশের বিপক্ষে না। তবে বিসিবি একাদশ নামে শুক্রবার যে দলটা তাদের সঙ্গে ৬৬ রানে হারলো, তারা তো ছায়া জাতীয় দলই! এই দলের বিপক্ষে জয়টা তাই নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো আফগানদের।
আফগানিস্তানকে বলা হচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেটের নতুন উঠতি শক্তি। কিন্তু বিসিবি একাদশের বিপক্ষে অনায়াস জয়ের পরে এই কথায় দ্বিমত পোষণ করতে পারেন আফগান ক্রিকেটাররা। তারা দাবি জানাতে পারেন, ‘উঠতি শক্তি’ না বলে ‘প্রতিষ্ঠিত শক্তি’ হিসেবে তাদেরকে আখ্যায়িত করার জন্য।
কদিন আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছিলেন, আফগানিস্তানকে তিনি এবং তার দল হালকাভাবে নিচ্ছেন না। বরং অন্য যে কোনো দলকে যেভাবে তারা সমীহ করেন, আফগানিস্তানকেও সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেটা যে দেওয়া দরকারই, আজ আফগানিস্তান টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাই প্রমাণ করে দেয়।
মাত্র ৩০ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারালেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৪৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়েও চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬৩ রান যোগ করে লড়াইয়ের পুঁজি দাঁড় করানোর পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান হাসমাতুল্লাহ। এ ছাড়া আর কেউ হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি। তারপরও দলীয় তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ইমরুল কায়েসর দলকে ২৩৪ রানের লক্ষ্য দেয় আফগানরা।
বিসিবির হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আলাউদ্দিন বাবু ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি করে উইকেট নেন শুভাশিস রয় ও আবু হায়দার রনি।
পরে জবাব দিতে নেমে ৩৯ রানের মধ্যেই প্রথম চার উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। ইমরুল কায়েস ও এনামুল হক বিজয় বিদায় নেন আট ও পাঁচ রান করে। নয় ও ছয় রান করেন সাব্বির রহমান ও লিটন কুমার দাস। ৯৫ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে বিসিবি একাদশ।
কিন্তু একদিন আগেই জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন ৭৬ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন দলকে। কিন্তু তার প্রচেষ্টা কাজে লাগেনি অন্যদের ব্যর্থতায়। শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানে অলআউট হয় বিসিবি একাদশ। মোসাদ্দেকের সঙ্গে মেহেদি হাসান মিরাজ (১৫) ও শুভাগত হোম (৩৪) ছাড়া আর কেউ দুই অংকের রানই করতে পারেননি। বিসিবি একাদশ হেরে যায় ৭৬ রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি চার উইকেট নেন। দুই উইকেট নেন ফরিদ আহমেদ। মূল সিরিজ শুরু হবে ২৫ তারিখে। এ মাসের ২৮ তারিখে দ্বিতীয় ম্যাচ আর শেষ ম্যাচ মাঠে গড়াবে অক্টোবরের এক তারিখে। সবগুলো ম্যাচ মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button