
আগামী ২৬শে নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ডেকেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। বুধবার বিকালে রওশন এরশাদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে দলের কাউন্সিল করার কোনো এখতিয়ার রওশন এরশাদের নেই বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমি এটা ফেসবুকে দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। কাউন্সিল ডাকার কোনো এখতিয়ার নেই ওনার (রওশন)। কারণ ওনি তো দলের কোনো পদে নেই। একটি দলের কাউন্সিল ডাকার এখতিয়ার হলো চেয়ারম্যানের। তিনি তো জানেন না এটা।
এদিকে কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন, দলের কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে বিরোধী নেতার রাজনৈতিক সচিব ও এরশাদ মুক্তি পরিষদের সাবেক সভাপতি গোলাম মসীহকে।
বিজ্ঞপ্তিতে রওশন এরশাদ বলেন, আমি বেগম রওশন এরশাদ (এমপি) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টির দশম কাউন্সিল আহবান করছি।
এই কাউন্সিল ২০২২ সালের ২৬শে নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমি লক্ষ্য করি, জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, নিয়মাবলি এবং পার্টির মূল আদর্শ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বর্তমানে পার্টি গঠনতান্ত্রিক গৃহিত আদর্শ, নিয়ম ও নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে ভ্রান্তপথে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি একটি মাল্টি ক্লাস গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি লালন করে না। জাতীয় পার্টির অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগীতার কারণেই আজ পদ্মা সেতুর মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর অবকাঠামো বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্মিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি পদ্মা সেতু নির্মাণের অন্যতম কৃতিত্বের অংশীদার। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের উচিৎ এই কৃতিত্বের অংশীদার হয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করা। কিন্তু নেতৃত্বের শীর্ষস্থান দখল করা নেতৃবৃন্দ এই কৃতিত্বের অংশীদারীত্বের বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে অনীহা মনোভাব পোষণ করছেন, যা পার্টির মূল নীতিমালা বহির্ভূত কাজ।
রওশন বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, জাতীয় অর্থনীতিতে লুটপাট এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ বিদেশে পাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণকে সচেতন করা একান্ত আবশ্যক। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির ভূমিকা অত্যন্ত দুর্বল। আমি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলের কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্যতর নেতৃত্ব নির্বাচন এবং বিপরীত গোষ্ঠীর অসৎ আয়ের বিনিময়ে নেতৃত্বপ্রদান এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের বসিয়ে দেয়ার প্রবণতা জাতীয় পার্টির ঘোষিত নীতির বিপরীত।




