Uncategorized

জমি নিয়ে বিরোধ-সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বোনকে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দুই বছর আগে সংগঠিত একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার বাদিই মুছা মিয়াই তার বোন রফিজা খাতুন হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানান তিনি।
গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার মেয়ে রফিজা খাতুনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন তার আপন ভাই মুছা মিয়া ও তার সহযোগীরা। পরবর্তীতে মুছা মিয়াই বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. আক্কাছ মিয়া (৪৫) ও মৃত সাদত মিয়ার ছেলে পরশ মিয়া (৪৫)।
এসপি শাখাওয়াত হোসেন জানান, রামপুর গ্রামের দরবেশ মিয়ার ছেলে মুছা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ গ্রামের একটি খাস জমি দখল নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে আবু কালামের একজন সমর্থক নিহত হন। পরে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের আরেকজন নিহত হন। এই খবর জানার পর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুছা মিয়া। সেই পরিকল্পনায় আরও কয়েকজন অংশ নেন।
এসপি আরও জানান, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মুছা মিয়া ও তার ভাই মোবারক, সোহাগ মিয়া, ভগ্নিপতি জয়নাল এবং চাচাতো ভাই আক্কাছসহ আরও কয়েকজন রফিজা খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর অংশ হিসেবে ঘটনার দিন রফিজাকে বাড়ির আঙিনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পরিকল্পনাকারী। এরপর প্রতিপক্ষের ৫৭জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছা।
এসপি জানান, তদন্তের মাধ্যমে হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আক্কাছকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া সোহাগ ও পরশকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুছা মিয়াসহ জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসপি শাখাওয়াত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পরিদর্শক ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ও উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button