ছেলের গোয়াল ঘরে মায়ের আশ্রয়, র্যাব কর্তৃক বাসগৃহ নির্মাণ

রংপুর ব্যুরো: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সুরিরডারা গ্রামে স্বামীহীন মহেছেনার পাশে দাঁড়িয়েছে র্যাব-১৩ । ঐ গ্রামের ইমাম আলীর স্ত্রী তিনি। তবে স্বামী চলে যাওয়ার পর অসহায় জীবন যাপন করছেন এ ষাটোর্ধ নারী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর র্যাব-১৩ অধিনায়কের পক্ষে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদ বশির আহমেদ গৃহহীন মহেছেনার হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন। এসময় তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও ফেসবুকে গৃহহীন মহেছেনার আশ্রয় হয় ছোট ছেলের গোয়াল ঘরে গরুর সঙ্গে শিরোনামটি র্যাব-১৩ অধিনায়ক এর দৃষ্টিগোচর হয়। মানবিক বিবেচনায় কালক্ষেপন না করে র্যাব-১৩, তথা র্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এতে কিছুটা হলেও মহেছেনার জীবনের দূর্দশার অবসান ঘটবে বলে র্যাব ফোর্সেস কামনা করছে। মহেছেনা বলেন, আমার আপনজন বলতে কেউ নাই । সবাই আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার থাকার কোন ঘর ছিল না। আমি ছোট ছেলের গোয়াল ঘরে থাকতাম। স্যারেরা আমাকে ঘর দিয়েছে আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব। তারা যেনো সব সময় আল্লাহর রহমতে ভালো থাকে। জানা গেছে, স্বামী ছেড়ে গেছেন প্রায় ছয় বছর আগে। এরপর দুই ছেলে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতেই বসবাস করছিলেন মহেছেনা। ৫/৬ মাস আগে বড় ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান অন্যত্র। সাথে নিজের করা ঘরটি ভেঙ্গে নিয়ে গেলেও ছেলেকে রেখে যান মা মহেছেনার কাছে। গৃহহীন মহেছেনার আশ্রয় হয় ছোট ছেলের গোয়াল ঘরে গরুর সঙ্গে। এই তীব্র শীতেও দশ বছর বয়সী নাতিসহ গরুর সঙ্গে একই ঘরে বসবাস করছেন ষাটোর্ধ মহেছেনা। মহেছেনার বাড়িতে গোয়াল ঘরের একদিকে একটি মাচা আর একদিকে শোয়ার বিছানা। মাঝখানের কোণায় গরু রাখার স্থান। গোবর-মূত্রের গন্ধ নিয়ে সেই ঘরেই বসবাস করছেন তিনি। যেন নিজ ভূমিতে পরবাসী মহেছেনা। ছোট ছেলে বাড়িতে থাকলেও স্বল্প আয়ের কারণে মায়ের জন্য আলাদা ঘর তৈরী করে দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ছেলের গোয়াল ঘরেই আশ্রয় হয়েছে তার।




