sliderস্থানিয়

চীনের উপহারের একটি হাসপাতাল দক্ষিনাঞ্চলে করার দাবিতে নলছিটিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি: চীন সরকারের দেওয়া উপহারের একটি হাসপাতাল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় স্থাপন এবং মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়কের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নলছিটি বাস স্ট্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী চায়না কবরস্থানের সামনে এ মানববন্ধন করে স্থানীয় জনতা। পরে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বাংলাদেশে চায়না দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ইজিবাইক শ্রমিক নেতা আল আমীন হাওলাদার, বিডিক্লিন সমন্বয়কারী মারজান, সমাজকর্মী বালী তূর্য প্রমূখ। এ সময় বক্তারা বলেন, চীনের উপহারের একটি হাসপাতাল বৈষম্যহীন বাংলাদেশের বৃহৎ দক্ষিনাঞ্চলের ন্যায্য পাওনা। তারা বলেন, বন্ধু পরিচয়ে ভারত চিরদিন আমাদেরকে শুষে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে চীনই আমাদের প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়েছে সবসময়। চীনের সাথে নলছিটির সম্পর্ক প্রায় দেড় হাজার বছর পুরনো। তাই এই তিনটি না হলেও প্রয়োজনে আরেকটি হাসপাতাল স্পেশালি করে দেওয়ারও দাবি জানান বক্তারা। এছাড়াও বক্তারা বলেন, আমরা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি চীনা সরকারের উপহারে নির্মাণাধীন তিনটি ১হাজার শয্যার “চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল” এর একটি যেন নলছিটির দপদপিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

এই অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্রস্থল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এবং ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরসহ পুরো বরিশাল বিভাগের সঙ্গে সংযুক্ত। তাহলে এটি হবে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার একটি আদর্শ স্থান।

নলছিটির সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বহু প্রাচীন। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের) কাছাকাছি সময় থেকেই চীনা ব্যবসায়ীরা এখানে বাণিজ্য করতে আসত। নলছিটিতে আজও “চায়না বাজার”, “চায়না ফিল্ড” ও “চায়না কবর” নামক স্থানগুলোর অস্তিত্ব বহন করছে। যা শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতিই বহন করে না বরং চীন-বাংলা মৈত্রীর ভিত্তিও তুলে ধরে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, চীনের তাং রাজবংশের সময় এক চীনা ব্যবসায়ী এই এলাকায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় জনগণ তাঁকে “চায়না ফিল্ড”-এর নিকটবর্তী স্থানে দাফন করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা সংরক্ষণ ও সম্মানের সাথে রক্ষা করে আসছে নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ। আজও সেই চীনা ব্যবসায়ীর কবরটি ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে নলছিটি চায়না মাঠের পাশে সংরক্ষিত আছে। যা নলছিটিবাসি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে থাকেন। এটি প্রমাণ করে যে, নলছিটির মানুষের সঙ্গে চীনা ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও প্রাচীন।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলেও নলছিটি ছিল একটি সক্রিয় আন্তর্জাতিক নদী বন্দর। চীনা ব্যবসায়ীরা এখানে এসে নারকেল, সুপারি, ডাল, সরিষা, তিল, আমলকি এবং মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বাণিজ্য করতেন। তাঁরা “চায়না ফিল্ড”-এ এসব পণ্য শুকিয়ে কলকাতা, করাচি ও মুম্বাইয়ে পরিবহন করতেন।

তাই চীন সরকারের উপহার ১হাজার শয্যার “চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল” যেন নলছিটিতে স্থাপন করা হয়। এটি শুধু সাধারণ জনগণের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানই করবে না, বরং চীন-বাংলাদেশ সহস্র বছরের বন্ধুত্বের প্রতীক ও ধারাবাহিকতাও বজায থাকবে।

বক্তারা আরো বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি পুরো অঞ্চলবাসীর উপকারে আসবে এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। আমরা হাসপাতাল স্থাপনের স্থান নির্বাচন, জমির ব্যবস্থা ও স্থানীয় সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।
ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button