ঘিওরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। এ থেকে রক্ষা পেতে মানুষের তাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দেখা গেছে, ৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন মহিলা ৫ জন।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়াচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সচেতনতার অভাবে গ্রাম অঞ্চলের মানুষজন এ রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও হাসপাতালে কম যাচ্ছেন।
ঘিওর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাঃ বিপুল বালো জানান, ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। শরীরে তীব্র ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, অরুচি, ডায়রিয়া, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে র্যাশ ওঠা বা লালচে দানা আসা ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ঘিওর হাট-বাজারসহ উপজেলার কোথাও মশা নিধনের কোন ধরনের ব্যবস্থা নেই। বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এবং ময়লা-আর্বজনার ভরাট থাকায় আতংকে আছেন বাসিন্দারা।
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন জলিল মিয়া জানান, হঠাৎ করে কয়েক দিন ধরে রাতের বেলাতে প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা অনুভব করি। পরে হাসপাতালে ভর্তির পরে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পরে।
উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুফিয়া আক্তার বলেন, কীভাবে আক্রান্ত হলাম বুঝতে পারছি না। তিন ধরে প্রচন্ড জ্বর, গা ব্যথা ও বমি রয়েছে। এখন একটু ভালো, চিকিৎসকরা বলেছেন, দুই তিন দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাব।
ঘিওর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসিফ আহসান বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা কামড়ানোর তিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর শুরু হয়। তাই দুই-তিন দিনের বেশি জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রচুর পানি খেতে হবে। সেই সঙ্গে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাওয়ার স্যালাইনও উপকারী বলে জানান এই চিকিৎসক।




