ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালীগঙ্গা নদীর কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীর ক্ষমতার দাপটে নদীর মাঝে বাসের বাণা ও মশারিকৃতি জাল দিয়ে বাঁধ সৃষ্টি করে অবাধে প্রতিদিন মাছ ধরছে। এতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে নদীর ¯স্রোত, মারা যাচেছ রেণু পোনা আর মাছের প্রজনন সমস্যা হচ্ছে দারুনভাবে। কালীগঙ্গায় বাঁধ দিয়ে অবাধে মাছ ধরা হলেও দেখার কেউ নেই।
সরজমিন নদীকুলবর্তী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে ডিমওয়ালা মাছ ধরছে। এসব গ্রামের কয়েকটি স্থানে নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত বাঁশের চরাট ও জাল দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এতে নদীর স্রোত বাধাগ্রস্থসহ মাছের অবাধ চলাফেরার সুযোগ থাকছে না। ডিম ছাড়তে পারছে না মা মাছ। মরে যাচ্ছে রেণু পোনা।
অবৈধভাবে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন বৈলতলা গ্রামের পান্নু মিয়ার ছেলে আঃ আজিজ। সে নদীর এপার থেকে শুরু করে ওপার পর্যন্ত বাঁধ দিয়ে অবাধে পোনা মাছ থেকে শুরু করে ডিওয়ালা মাছ ধরছে।
নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে কেন মাছ শিকার করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আঃ আজিজ জানান, আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাঁধ দিয়েছি।
স্থানীয় সিংজুরি ইউ,পি চেয়ারম্যান আঃ আজিজ মাস্টার জানান, আমি মৌখিক ভাবে তাকে বলেছি ছোট করে বাধ দেওয়ার জন্য ও যে সম্পূর্ন নদী বাধ দেবে আমি জানিনা।
এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিবছর এলাকার অনেক লোক নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু তাদের কিছুই হয়না। এদের জন্য শক্ত আইন দরকার। বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১/২ হাজার টাকা জরিমানা করে কোন লাভ নেই। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
ঘিওর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ শারফ উদ্দিন জানান, সাধারণত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে নদীতে যখন পানি বেশি হয় সে সময় দেশী কিছু মাছে ডিম ছাড়ে। আর ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজন হয় ¯্রােতের । কিন্তু নদীতে যদি বাঁধ দেয়া হয় তাহলে মাছের প্রজনন সমস্যা হয়, রেণু পোনা মারা যায়। আর যদি ¯্রােত বাধাগ্রস্থ হয় তাহলে মাছের বেড়ে উঠাও সম্ভব হয় না। তিনি আরো জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ।আমি বিষয়টি শুনেছি ইউএনও স্যারকে সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবা আইরিন জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




