
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার রামদিয়া নালী গ্রামে অচাষকৃত উদ্ভিদের সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিয়ে শতবাড়ি ও স্থানীয় কৃষকদের আয়োজনে এবং বেসরকারী গবেষণা ধর্মী প্রতিষ্টান বারসিক’র সহযোগিতায় পাড়া মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মেলায় স্থানীয় ৩২ জন কৃষক ৪৬ ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ করে বাঁশের চালুনীতে দৃষ্টনন্দন ভাবে মেলায় উপস্থাপন করেন। মেলায় আগত তরুন, শিশু, যুব, শিক্ষার্খী, প্রবীন মানুষ সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় জমান। রামদিয়া নালী গ্রামের শতবাড়ি কৃষক আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে মেলায় অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব এর উপকারিতা ঔষধি গুনাগুন এর ব্যবহার ও সংরক্ষন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহন করেন রামদিয়া গ্রামের শতবাড়ির কৃষক সীমা রানী সরকার, ঊষা রানী সরকার, রেহেনা আক্তার, শিউলি সিং। এছাড়া আরো আলোচনায় করেন বারসিক মানিকগঞ্জ প্রোগ্রাম অফিসার সুবীর কুমার সরকার, গবেষণা সহকারী শ্যামায়েল হাসদা ।
অচাষকৃত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য রয়েছে কলমী শাক, বৈথা, ওলট কম্বল,কালা কচু, আজারা কচুর লতি, বড় কলমি, ঢেঁকিশাক, খারকুন, টেকা খারকুন, দুধ কচু, গুলাল পাতা, কল্পনাথ, বাসক, তেলাকুচ পাতা, ভাদাইল, মটমটি, বউটুনি, গোড়া হেচি, গোল হেনসি, ফুল হেচি, হরহরি চুতরা, পাথরকুচি, দূর্ব্বা, জল হেচি জল পানা/কচুরি পানা,তামাকটুলী, সোনাতুলী, আগড়া, শাপলা ফুল, ঘাওপাতা, চিনিগুড়া, কাঁটাখুরা, খসখসা ডুমরা, আদারী কচু, কেশুরজা, হাতিশুঁড়া, পাহাড়ি জঙ্গল, বিশজারণ, ছিটকী, জোহানী পাতা, তৈল কন্টু, শোল পাতা, ভেন্না, কানাইলা/কানিলা, পিপল, বাকশা, ভাটি, বিলাই এচড়া, ডেমি/গিমা, নুনকুটে, চেরচেরী, গইচা, কৈটুরা, নাকফুল, জগডুমড়া, করচা, দণ্ডকলস, বেরাটি, মরিচ গাছ, টব বাগুন/তিত বেগুন,লাল মধু, শন, বিষকাটালী, হামা ঘাস, খেলনা কপি, সাদা ফুল, মাইক ফুল,রূপি, ইচাঝুরি শাক, খেতা শাক, পাট মাদারী, গন্ধফুল, বিন্না, তেতুলা পানা, মালঞ্চশাক ইত্যাদি।
এ সকল অচাষকৃত উদ্ভিদ চাষ বা পরিচর্যা করতে হয় না। যা আপনা আপনি বাড়ীর আশে পাশে, আলার পালানে, জমির আইলে, বাড়ির ভিটায়, রাস্তার পাশে দিয়ে জন্ম নেয়। কোন ধরনের রাসায়নিক সার বিষ দিতে হয় না। এই সকল উদ্ভিদ পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । এই উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে, যা খাবার হিসেবে, কখনো রোগ নিরাময়ে ও ওষুধি হিসেবে মানুষ ও প্রাণী সম্পদের রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকে। পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের জন্য এই অচাষকৃত উদ্ভিদ যেমন একদিকে নিরাপদ খাদ্য অপর দিকে রয়েছে এর বিশেষ ঔষুধি গুন। অচাষকৃত উদ্ভিদের এই পুষ্টিগুন ও উপকারিতা এর সংরক্ষণ ও ব্যবহারের র্চ্চা টিকিয়ে রাখার জন্য জনসচেতনতা তৈরিতে আরো প্রচার প্রচারণা করা প্রয়োজন বলে আয়োজক বৃন্দগণ মনে করেন।
আলোচক বৃন্দরা বলেন অচাষকৃত উদ্ভিদ আমাদের খাদ্য যা আমাদের জীবনকে টিকে রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে । তাই আমাদের এই অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষনে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে যে শাক সবজি বা খাদ্য উদ্ভিদ রয়েছে সেগুলো যেন আর নষ্ট না হয় তার প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে। তরুন প্রজম্নের যারা রয়েছে তাদের অচাষকৃত উদ্ভিদের সাথে পরিচয় ঘটাতে হবে। আগামীদিনে এর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজক বৃন্দগণ আশা ব্যক্ত করেন।




