Uncategorized

গোপনে লাশ দাফনের চেষ্টা বাবা-সৎ মায়ের, উদ্ধার করলো পুলিশ

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর লাশ গোপনে দাফন করার সময় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার ডিটি রোডের ১ নম্বর সুপারিওয়ালা পাড়ার রফিক সওদাগরের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত ছাত্রীর নাম আকিলা ওসমান ইকরা (১৩)। তিনি ওসমান ফারুক বিপলুর মেয়ে। ইকরা পোস্তারপাড় আসমা খাতুন সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেয়েটির বাবা ও সৎ মায়ের দাবি, ইকরা জানলার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে দোলনা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে মৃত্যু হয়েছে। তবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন মেয়েটির নানা। এমনকি মেয়েটিকে তার বাবা ও সৎ মা মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন বলেও জানান তিনি।
উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গিয়ে দেখেন মেয়েটিকে দাফনের জন্য কাফন পড়ানো হয়েছে। মেয়েটির বাবা ও সৎ মা পুলিশকে জানায়, গ্রিলের সঙ্গে সিল্কের একটি ওড়না দিয়ে দোলনা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। তাকে তারা উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, মেয়েটির বাবা ও সৎ মার কথা বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় রাত ২টার দিকে ওই লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ‘আপাতত অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মেয়েটির নানা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ভাগ্নির সঙ্গে ওসমান ফারুকের বিয়ে হয়। মেয়েটির জন্মের পর ওসমান ফারুকের সঙ্গে ভাগ্নির বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে ওসমান আরেকটি বিয়ে করে। আমার ভাগ্নিরও অন্যত্র বিয়ে হয়। সে এখন তার স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে থাকে। মেয়েটি তার বাবার কাছে ছিলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় তার মা সৌদি থেকে তাকে ফোন করতো। এ সময় সৎ মা ও বাবার শারীরিক নির্যাতনের কথা জানাতো ইকরা। মেয়েটিকে তার সৎ মা ও বাবা মিলে মেরে ফেলেছে। আমি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। ওসি শুক্রবার রাতে থানায় যেতে বলেছেন। আমরা সৎ মা ও তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button