রাজনীতিশিরোনাম

গণতন্ত্রহীনতার বিভীষিকা থেকে জাতি মুক্তি চায়: সৈয়দ ইবরাহিম

গণতন্ত্রহীনতার বিভীষিকা থেকে জাতি মুক্তি চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোরআন তিলাওয়াতের পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন। পরে কল্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাসদের খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মাওলানা ক্বারী আতাউল্লাহ হাফেজ্জি, মাওলানা আমিরুল ইসলাম বেলালী প্রমূখ।
সভাপতির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থাকা সরকারের স্বৈরাচারী কর্মকা- থেকে মুক্তির তাড়নায় দেশবাসী ছট্ফট্ করছে। গণতন্ত্রহীনতার বিভীষিকা থেকে জাতি মুক্তি চায়। জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন পাগলা ঘোড়া জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে। বিজয়ের আনন্দ আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কোথায় সেই প্রাণচাঞ্চল্য? মানুষ এখন দু’বেলা খাবার জোগাড়ের সংগ্রামে লিপ্ত।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবীতে আমার নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার কোনো সদুত্তর নেই। আজকের সভা থেকে আবারো জোর দাবী করছি সম্ভব হলে আজকেই নির্বাহী আদেশবলে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, কল্যাণ পার্টি চলমান পশ্চাদপদ রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী। সেই লক্ষ্যে দেশ বিদেশের পন্ডিত ও জ্ঞানী-গুণীদের কল্যাণ পার্টিতে সংযুক্ত করা হচ্ছে। কল্যাণ পার্টি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে রাজনীতির গতিপথকে জনমুখী করবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বিনির্মাণ করবে। প্রবাসীবান্ধব নীতি ও কর্ম বাস্তবায়নে অধিকতর মনোযোগী হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইনমন্ত্রী প্রায় আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলে। কোন আইনি প্রক্রিয়ায় জাস্টিস সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলেন? কেন জজকোর্টের জজ সাহেবকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে? এটার কোনো উত্তর দিতে পারেননি আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আজকে আইন, বিচার, প্রশাসন সবকিছু শেখ হাসিনার আঁচলে বন্দী। কোনো নিরপেক্ষ বিচার নেই। আপনি (আইনমন্ত্রী) বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। যে মামলার কোনো স্বাক্ষর নেই, কোনো প্রমাণ নেই, অন্যায় ভাবে সেই মামলা সাজা দিয়েছেন। এই অন্যায় সাজার কাছে বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করবেন না।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম বলেন, আমরা সব সময় সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভক্তি এবং বিভাজনের রাজনীতি চলছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আজকে দেশে জালিম সরকার রয়েছে। এর থেকে বাঁচতে হলে দল মত নির্বিশেষে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার চিকিৎসা এ দেশে সম্ভব নয়। আমরা বেগম জিয়াকে অবিলস্বে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার আহবান জানাচ্ছি।
আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সারাংশ ছয়টি ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- এনডিপি’র চেয়ারম্যান ক্বারী মো আবু তাহের, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরী, মেজর অব. মো হানিফ, কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য সৈয়দা ফোরকান ইবরাহিম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো হাসান নাসির, ড. শাহেদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, কর্নেল অব. মিয়া মো মশিউজ্জামান, ২০ দলীয় জোটের মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, এড. সৈয়দ এহসানুল হক, ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ প্রমূখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button