খুলে দেওয়া ফারাক্কার ৯৫টি গেট

ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেটের মধ্যে ৯৫টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিহার রাজ্যের বন্যার পানি কমার কোনো অগ্রগতি দেখা না গেলে বাঁধের ১০০টি গেটই খুলে দেয়া হতে পারে।
ফারাক্কা বাঁধের এই গেটগুলো খুলে দেয়ার ফলে প্রায় ১১ লাখ কিউসেক পানি সরে গিয়ে বিহার প্রদেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে রাজ্যটিতে প্রায় ১০ লাখ লোক পানিবন্দী অবস্থায় আছে।
তবে এই ১১ লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশের ভেতরে এসে বাংলাদেশ অংশে পদ্মায় পানি প্রবাহ বাড়ালেও তা বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা। ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেটের ১০০টি খুলে দেয়া হলেও বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা অবনতি ঘটবে না বলেই মনে করছেন এই কর্মকর্তারা।
দেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছর এই সময় ফারাক্কার গেট খোলাই থাকে। সুতরাং নতুন করে গেট খোলার কিছু নেই।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র সমীর সিনহাও জানান, বছরের অন্য সুময়ের তুলনায় বর্ষাকালে ফারাক্কায় বেশি গেট খোলা থাকে। সুতরাং এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি এটিকে একটি সাধারণ ঘটনা বলেই উল্লেখ করেন।
এদিকে সমীর সিনহা জানান, ফারাক্কা বাঁধের ১০০টি গেট খুলে দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশকে আগেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে। এবং একইসাথে ফারাক্কা নিয়ে পরামর্শও হয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেয়া হলে যে ১১ লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে তাতে পদ্মায় পানি বাড়লেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না।
উল্লেখ্য, ভারতের বিহারে বন্যায় দুই লাখ মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




