sliderস্থানিয়

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালিদের মাঝে সেনাবাহিনীর ১৫’শ গাছের চারা বিতরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ পার্বত্যাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়িতে পাহাড়ি ও বাঙ্গালি জনগণের মাঝে বিনামূল্যে ১৫’শ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে লক্ষীছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ এর অংশ হিসেবে জিওসি, ২৪ পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়ার নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় এক কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে লক্ষীছড়ি উপজেলার ১০টি পাড়া থেকে আগত প্রায় ২০০ জন পাহাড়ি ও বাঙ্গালি পরিবারের সদস্যদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি প্রজাতির মোট ১,৫০০টি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম।

তিনি উপকারভোগীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সক্রিয়ভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, বৃক্ষ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই প্রত্যেক পরিবারকে নিজ নিজ আঙিনা ও খালি স্থানে গাছ লাগিয়ে সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করার আহ্বান জানান তিনি।

চারা গ্রহণকারী পাহাড়ি ও বাঙ্গালি উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিনামূল্যে বিতরণকৃত ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ ভবিষ্যতে তাদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্যাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ১ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনী শুধু পরিবেশ সংরক্ষণই নয়, বরং একটি টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেে চলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button