ক্রিকেটারদের প্রতিভায় মুগ্ধ ওয়ালশ

কোচিং পেশাতে জড়ানো তো বটেই। এরপরও সুদূর বাংলাদেশে এসে পেশাটা শুরু করারও একটা কারণ আছে। ওয়ালস জানালেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সম্ভাবনার কথা। অনেক ট্যালেন্ট ক্রিকেটার রয়েছে। যাদের নিয়ে কোচিং পেশার শুরুটা তার প্রত্যাশিত বা প্লান অনুসারেই হবে।
সূচনাটা যদি ভালোই না হয় তাহলে তো আগানো কষ্টকর। জানা গেছে সব দিক বিবেচনা করেই বাংলাদেশের প্রস্তাবনা লুফে নিয়েছেন এ ক্যারেবীয় সাবেক। আগের দিন ঢাকায় পৌঁছে বিশ্রামে কাটিয়ে আজ আসেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। কিন্তু শিষ্যদের সঙ্গে দেখা হয়নি তার। এমনিতেই ছিল কাল বিশ্রামের দিন। এরপরও কিছু ক্রিকেটার বিশ্রামেও অনুশীলনে থাকেন। কাল ছিল জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। তাতে অংশ নিতে সিনিয়র অনেক ক্রিকেটার সেখানে যোগ দেয়ায় কারো সঙ্গেই দেখা হয়নি তার।
তবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তিপর্ব সেরে সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখেন ফ্যাসেলিটিজ। জিমনেশিয়াম, অ্যাকাডেমি মাঠ, মূল স্টেডিয়াম। ইনডোর ও তার সংলগ্ন প্র্যাকটিস উইকেটসহ যাবতীয় বিষয়। কারণ এখানেই সোমবার শুরু হবে তার কাজ মাশরাফিদের নিয়ে। জাতীয় দলের হেড কোচ হাতুরাসিংহেও নেই। ছুটিতে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়া। ডেপুটি ইংল্যান্ডের ডেভিড হ্যালসাল মূলত দেখছেন সব। ওয়ালস তার সঙ্গে যোগ দিয়েই কাজ বুঝে নেবেন। পরিচিত হবেন মাশরাফি, আল আমিন, শফিউল, রুবেল, কামরুল ইসলাম রাব্বিদের সঙ্গে। কারণ মূল কাজ তো তার পেসারদের নিয়েই।
এ দিকে আগের দিন ঢাকায় পৌঁছলেও বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শিডিউল ছিল না তার। কাল সে পর্বটা সেরেছেন মিরপুর শেরেবাংলায়। সুদূর ক্যারিবীয় আবহাওয়া, পরিবেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে নতুন এ কোচিং পেশায় কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবেন তিনি নিজেকে এমন প্রশ্নটা উঠেছে। জবাবও দিয়েছেন তিনি। ওয়ালস বলেন, ‘১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যারিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজেই পড়ে থাকিনি। খেলতে হয়েছে বিশ্বের অনেক জায়গায়। নির্বাচক হিসেবেও গিয়েছি অনেক। ফলে অভ্যাসটা তো আছে। তবে এখানে বন্ধু তৈরি করে নিতে আমার সমস্যা হবে না। আমি সব ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে পারব।’
কোচিং ক্যারিয়ারের সূচনাতে বাংলাদেশকে বেছে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের বোলিং অনেক উন্নতি করছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এক দেড় বছর ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ফলো করছি। এখানে দারুণ কিছু প্রতিভা রয়েছে। মূলত তাদের সঙ্গে কাজ করার ভালো কিছু সুযোগ রয়েছে।’
যদিও পরিচয়ই হয়নি। তবুও আগ থেকেই শিষ্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো একটা সম্ভাবনার দেশ, এখানে রয়েছে ভালো কিছু প্রতিভা। আমি তাদের সঙ্গেই কাজ করতে মুখিয়ে আছি। আমার মূল কাজ হবে তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
বাংলাদেশে আসার পর থেকেই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত সর্বত্রই আন্তরিকতার একটা ছোঁয়া অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুবৎসল। তা ছাড়া এখানকার সাংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তবে যতটুকু দেখলাম সবাই খুবই আন্তরিক। এটাতে আমি খুবই খুশি।’ বিসিবি প্রসঙ্গে বলতে যেয়ে তিনি বলেন, ‘বিসিবি সিইও যখন বললেন আমিই তাদের প্রথম পছন্দ। তখন আমি অনুভব করলাম, তারা আমার প্রতি কতটা আগ্রহী। ভেবে দেখলাম, বিসিবি এখানকার ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছুই চিন্তা করছে। বিসিবির এ আগ্রহটাও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বাংলাদেশে আসতে।’
উল্লেখ্য, একদিন বিরতির পর সোমবার সকাল ৯টায় আবার শুরু হবে জাতীয় দলের অনুশীলন।




