উপমহাদেশশিরোনাম

কৃষক বাবার আত্মহত্যা : মেধাবী মেয়েটি এখন বাসন মাজছে হোটেলে

ঋণের চাপে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় ভারতের গুজরাট প্রদেশের জামনগর জেলার ভাবড়ি গ্রামের কৃষক রানাভাই গাগিয়া (৪৯)। আর এতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রানর পাঁচ ছেলে মেয়ের সবাই ছিলো শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অঞ্জলি ছিলো সবচেয়ে মেধাবী।
৭৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলো সে। তবে এরপর আর কলেজে যাওয়া হয়নি টাকার অভাবে। সে এখন কাজ করে এলাকার একটি হোটেলে। দু’বেলা বাসন মাজে।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, গত অক্টোবরের ২৫ তারিখ ভোরে খেতের পাশের ইলেকট্রিক পোস্টে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় রানাভাই গাগিয়ার লাশ।
রানাভাইয়ের মেয়ে অঞ্জলি জানান, ‘বেশ কিছু দিন ধরেই অসহায় অবস্থায় কাটাচ্ছিলেন তিনি। রানাভাইয়ের চাষের খেত শ্মশান হয়ে গিয়েছিল। পানির অভাবে মরে গিয়েছিলো জমিতে পোতা বাদাম আর কাপাস। এদিকে সবকিছু মিলিয়ে ধারদেনা হয়েগিয়েছিলো লাখ তিনেক টাকা। সংসার আর ধারদেনা মিলিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় ছিলেন রানাভাই। এ অবস্থায় সাহায্য চেয়ে ঘুরেছেন নেতাদের বাড়ি বাড়ি। গিয়েছিলেন ইনসিওরেন্সের অফিসেও। কিন্তু কোথাও মেলেনি কোনো সাহায্য।’
অঞ্জলির বয়স সদ্য ১৫ ছাড়িয়েছে। বাবার আত্মহত্যার পর তার থেকে চার বছরের বড় দাদা জয়েশ জামনগরের কলেজে পড়া ছেড়ে সেখানেই একটা কারখানায় কাজ জুটিয়েছেন। দিনপ্রতি মেলে ১৫০ টাকা। ১৭ বছরের দিদি শীতল আর ১৩ বছরের বোন কাজলও ছোটখাটো কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের প্রাপ্য আরও কম। ছোট ভাই ভরত এখনও পড়াশোনা করে। তবে স্কুলে যাওয়া হয় না নিয়মিত। গত চার মাস ধরে তাঁদের ঠিকানা আর ভাবড়ি নয়, জামনগর শহর থেকে কিছুটা দূরের দরে়ড গ্রামে দেড় হাজার টাকার ভাড়াবাড়ি। সেখানেই কোনও রকমে টেনেটুনে দিন কাটছে গাগিয়া পরিবারের।
অঞ্জলিকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সে কোন ক্লাসে পড়ে? কষ্টের দলাটা ঢোক গিলে জবাব দিল, ‘ক্লাস টেনে পড়তাম। ৭৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলাম। ইলেভেনে আর ভর্তি হওয়া হয়নি। দাদা-দিদিরা কোথায় টাকা পাবে। আমি তাই কাজে ঢুকে পড়েছি।’
কী কাজ? হোটেলে বাসন মাজার কাজের কথাটা কোনোভাবেই সে উচ্চারণ করতে পারল না। পাশ থেকে মা কবিতাবেনই বসসেন, ‘ও এ পাড়ার একটা হোটেলে দু’বেলা বাসন মাজে।’
স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই এখন কবিতাবেনের চিন্তা, ‘তিন মেয়ের বিয়ে কী করে দেব? ওরা পড়াশোনায় এত ভাল ছিল! হোটেল-কারখানায় কাজ করা মেয়েকে সমাজে তো কেউ ভাল চোখে দেখে না!’ সঙ্গে এটাও বললেন, ‘আমার বাচ্চারা সবাই মিলে চেষ্টা করছে, বাবার ধার যাতে দ্রুত শোধ করা যায়। সরকার পাশে থাকলে সুবিধাই হত।’
এটা কোনো একটা গাগিয়া পরিবারের কাহিনি নয়। পুরো সৌরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২৮ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন! সংখ্যাটা নিয়ে সরকারের খুব একটা ভাবনা আছে বলে কৃষক মহল মনে করে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button