কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্হান নিয়ে গণবৈঠক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কেতারমোড় যতিনেরহাটস্থ এলাকায় প্রস্তাবিত কুড়িগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের দাবিতে গণবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কেতারমোড় বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো: নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণবৈঠকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মো: নজরুল ইসলাম, নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: জয়নাল আবেদীন, যতিনেরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম মিঠু, সহকারি শিক্ষক লিংকন, এডভোকেট লিয়াকত আলী, এডভোকেট মমিনুর রহমান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তাগণ কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সভায় উপস্থিত সকলে কুড়িগ্রামের জন্য প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের দাবি জানান।বক্তাগণ বলেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কেতারমোড়-যতিনেরহাটস্থ নালিয়ার বিলে আনুমানিক ১৬০০ একর জমি রয়েছে এবং বিল হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এর অধিকাংশ এলাকা সমতল ভূমি। বছরের প্রায় সাতমাস এ বিলে কোন পানি থাকে না। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ বিলে ১৫০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। বিলটি কুড়িগ্রাম শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দক্ষিণে কুড়িগ্রাম-চিলমারি মহাসড়ক ও রেলপথ সংলগ্ন। বিলের দক্ষিণ-পুর্বে রয়েছে ধরলা নদীর মাধ্যমে নৌ-পথ।যার সাথে চিকমারী নদী বন্দর ও রৌমারী-রাজিবপুরের সাথে নৌচলাচলের নৌ ঘাট। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি, রাজিবপুর, চিলমারি, উলিপুর উপজেলার জনসাধারণ যাতায়তের জন্য উল্লেখিত মহাসড়ক, রেলপথ এবং নৌ-পথ ব্যবহার করে থাকেন। চিলমারি উপজেলায় দ্বিতীয় তিস্তা ব্রিজটি চালু হলে রাজধানী ঢাকা এবং রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলটি হবে জেলার প্রবেশপথ। তাছাড়া সরকারের সুদূর প্রসারি পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের সাথে রৌমারি ও ভুরুঙ্গামারি স্থলবন্দরের মাধ্যমে যে আন্ত:রাষ্ট্র যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ফলে ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে এখানে এসে পড়তে পারবে। ভৌগোলিক বিবেচনায় মৎস্য ও কৃষি বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী একটি এলাকা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনফসলী আবাদী জমিও তেমন ব্যবহার হবে না। সবদিক বিবেচনায় আমরা মনে করি প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কেতারমোড়-যতিনেরহাটস্থ নালিয়ার বিলে স্থাপন করা হলে কুড়িগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুড়িগ্রামের জন্য প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ও স্থান নির্বচন নিয়ে গণবৈঠক।
স্থানীয় অধিবাসী হিসেবে প্রভাষক মিজানুর রহমান এবং প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন তাঁদের বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব ঘোষণা করার জন্য এলাকবাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তাঁরা বলেন গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রামের সদাশয় জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় প্রশাসন আশা করি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। জাতির পিতার প্রধান স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। তিনি উপলব্ধি করেন কৃষিকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে বাংলাদেশের কৃষিতে এক মহাবিপ্লব ঘটে গেছে। কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা তাঁর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের প্রতিফলন।
সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব মো: নুরুল হক বলেন, আমরা কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট কেতারমোড়ে প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্বাবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর/২০২০ আবেদন প্রেরণ করেছি। আমরা চাই কুড়িগ্রামের জন্য প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাতারমোড়-যতিনেরহাটস্থ নালিয়ারবিলে স্থাপিত হোক এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হোক ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’।




