
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: শুক্রবার রাতে: চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে হামলা, ভাঙচুর এবং চালক-সুপারভাইজার-হেলপারকে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কুড়িগ্রামের বাস শ্রমিকরা। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা জেলা শহরের ঘোষপাড়া শাপলা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে ঢাকাগামী মা নাদিয়া পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশের সময় ধরলা সেতু এলাকায় কয়েকজন যুবক বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। চালক যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসটি না থামিয়ে এগিয়ে গেলে টোল প্লাজা এলাকায় বাসটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
এতেই শেষ হয়নি হামলা। অভিযোগ রয়েছে, পরে জেলা শহরের রিভার ভিউ মোড় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনেও বাসটি থামিয়ে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টা থেকে শাপলা চত্বরে একাধিক বাস আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে রাত ১১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চলছে।
চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে হামলা শুধু একটি পরিবহনের ওপর আঘাত নয়, এটি সাধারণ যাত্রীর জীবন ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা। দিনের পর দিন সড়কে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলেও যদি দোষীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল।




