কিডনি ও ক্যানসার হাসপাতালের দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশের চিকিৎসা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুটি বিশেষায়িত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। হাসপাতাল দুটি হলো— জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই মনোনয়নের ফলে দেশের ক্যানসার ও কিডনি চিকিৎসাসেবার শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠান দুটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর সম্পৃক্ততা ও তদারকি আরও বৃদ্ধি পেল।
নিয়োগপ্রাপ্ত ড. এম এ মুহিত একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাজ্যে যান এবং দেশটির স্বনামধন্য ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম এমএসসি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় এমএসসি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
যুক্তরাজ্যে উচ্চতর শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষে ২০০০ সাল থেকে তিনি লন্ডনের চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং গবেষণার কাজে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের চক্ষুরোগ বিষয়ে তাঁর উচ্চমানের গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে।
চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে অবদানের পাশাপাশি তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সাইটসেভার্স ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনস্বাস্থ্যসেবা ও বৈশ্বিক গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মুহিত ‘এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অপথালমোলজি অ্যাওয়ার্ড’, ‘রয়্যাল সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যাওয়ার্ড’ এবং আন্তর্জাতিক চক্ষু সংগঠন আইএপিবির মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল আই হেলথ হিরো’ পদকে ভূষিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক দক্ষতা দেশের ক্যানসার ও কিডনি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এবং হাসপাতাল দুটির প্রশাসনিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।