কাবিনের টাকার নেশায় দ্বিতীয়বার খোলাতালাক,কোর্টে মামলা

মির্জাপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জাথালিয়া এলাকার সাদুল্যাপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেনের সাথে প্রায় ১৩ বছর আগে ২০১১ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ছোট গবড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেনের মেয়ে নিপা আক্তারের সাথে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার কাবিনে বিয়ে হয়।
বিয়ে তারা দুজনে প্রেমের সম্পর্ক করেই করেছিল। কিন্তু জাকিরের পরিবার তা প্রথমে না মানলেও পরে মেনে নিয়ে সুখের সংসার করে। তারা দুজনেই তখন গার্মেন্টসে চাকরি করে। গার্মেন্টসে চাকরি করা অবস্থায় জাকিরের সমস্ত টাকা স্ত্রী নিপা আক্তারের কাছে রাখে। পরে নিপা আক্তার সেই টাকা তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন জাকির হোসেন। পরবর্তীতে তাদের ঘরে একটি প্রতিবন্ধী ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। জাকির তার স্ত্রীকে নিয়ে চাকরি বাদ দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। দেখা দেয় অভাব। চাকরির জমানো টাকা নিপা তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন,এ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হয় সংসারে। পরে এক পর্যায়ে স্ত্রী নিপা আক্তার তার শাশুড়ী,শ্বশুর ও স্বামীকে মারধর করে। ২০১৭ সালে গিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হয় খোলা তালাক। আবার তার কয়েক মাস পর একই সালে জাকির ও তার সাবেক স্ত্রী নিপা আক্তার যোগাযোগ করে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেন। পরে তারা আবার সংসার করা শুরু করেন এবং দুজনেই গার্মেন্টস চাকরি করেন। তার কিছুদিন পর তারা আবার বাড়িতে আসেন। কিন্তু বাড়িতে তাদের মেনে নেয় নি। কিন্তু জাকিরের পরিবারের কি আর করার, পরে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
স্ত্রী নিপা আক্তার ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসের ১৬ তারিখে জাকিরকে মিথ্যা কথা বলে নিয়ে যায় ধামরাই থানার তার এক আত্মীয়ের বাড়ি। সেখানে গেলে রাতে জাকিরকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আবার ৪ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কাবিন করেন। জাকির যেন এই বিষয়ে কারো কাছে কিছু না বলে,এই মর্মে জাকিরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয় নিপা ও তার আত্নীয়স্বজনরা। ১-২ দিন পর নিপা ওই আত্নীয়ের বাড়িতে থেকে জাকিরকে সাথে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি যায়। কিছুদিন যাওয়ার পর জাকিরের বাড়িতে কেউ না থাকলে নিপা তার শাশুড়ীকে বেধড়ক মারধর করেন,ফলে তার শাশুড়ীর মাথা ফেটে যায় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।শাশুড়ীকে মেরেই নিপা কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন উপকার না পেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন।পরে নিপা আক্তার ও জাকির যোগাযোগ করে আবার ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার বিনিময়ে খোলাতালাক করেন এবং মামলা তুলে ফেলবেন এই প্রতিশ্রুতিও দেন নিপা আক্তার। কিন্তু নিপা মামলা তুলে নাই কিন্তু জাকির কোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
স্ত্রী নিপা বলেন,আমার কাছে জাকির ও তার পরিবার যৌতুকের টাকা দাবি করে,না দিলেই মারধর করত।কোন উপায় না পেয়ে আমি মামলা করি।এখন যদি আবার জাকির আমাকে গ্রহন করে তাহলে আমি ওর কাছে যেতে ইচ্ছুক।
ভুক্তভোগী জাকির বলেন,নিপা শুধু আমার টাকাকে ভালোবাসে।আমি ওর কাছে যৌতুক চাই নি,বরং ওই আমার টাকা আত্মসাৎ করার জন্য এইরকম টালবাহানা করতেছে।ও আমার নিকট থেকে ২ বার খোলাতালাক করে ২ বারই টাকা নিয়েছে।আমার আর কিছুই করার নেই।তিনি আরো বলেন,দ্বিতীয়বার বিয়ের সময় কোর্টে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করি কিন্তু তারপরও কেন ৫-৬ বছর পর আবার আমাকে দিয়ে জোর পূর্বক কাবিন করল।সেখানে আমার বাড়ির কেউ উপস্থিত ছিল না।আমি ভয়ে সেদিন শুধু প্রানটা নিয়ে ফিরছিলাম।
জাকিরের মা-বাবা বলেন,আমার ছেলের বউ আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে।ওর মত মেয়ে যেন কারো ঘরে জন্ম না নেয়।
সংশ্লিষ্ট কাজীরা বলেন,কাবিন করেছি,খোলাতালাক করেছি।আমরা আমাদের আইন অনুযায়ীই কাজ করেছি।



