
আসাদুল্লাহ মাসুম কাপাসিয়া প্রতিনিধি: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করা এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন সালাহউদ্দিন আইয়ূবী—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কাপাসিয়া আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৬১.৬৫ ভাগ। পোস্টাল ভোট কেন্দ্রসহ মোট ১২৩টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
চূড়ান্ত ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সালাহউদ্দিন আইয়ূবী পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৯০ ভোট। এতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৮৯।
এ ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। জাতীয় পার্টির এনামুল কবির (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ১৪৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. কাজিম উদ্দিন (হাতপাখা) ২ হাজার ৩৪৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শফিউল্লাহ (ফুটবল) ১ হাজার ৫২১ ভোট, সিপিবি’র মানবেন্দ্র দেব ১ হাজার ৯১ ভোট, আমজনতা দলের জাকির হোসেন ২৭৮ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনির হোসেন পেয়েছেন ১৩৫ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই কাপাসিয়া উপজেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। মিছিল, আনন্দ-উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে তারা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সালাহউদ্দিন আইয়ূবী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কাপাসিয়ায় জামায়াতের এই বিজয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।




