Uncategorized

কাঞ্চনপুরে ভোট যুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক সেনা সদস্য

জ.ই.আকাশ, হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ) : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের অন্যতম পদ্মা অধ্যুষিত ৯নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ভোট যুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সদস্য অংশগ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সভাপতি মো.আমির হোসেন। সে ইউনিয়নের কোটকান্দি গ্রামের আব্দুল হালিম মোল্লার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৭০ দশকের স্বাধীনতা উত্তোরাত্তর হতে এ পরিবার থেকে বিগত সময়ে ৪জন এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে জন প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পারিবারিক ধারাবাহিকতায় চলতি নির্বাচনে একই পরিবার থেকে এই যুবলীগ নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মো. আমির হোসেন ।
তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে যোগদান। টানা ২২ বছর চাকরি জীবন শেষে ২০১৬ সালের মে মাসে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণ শেষে ২০১৭ সালে আওয়ামী যুবলীগের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে পর্দাপণ করেন।রাজনীতিতে এসেই তিনি কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি পদ পান এবং নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে জনসেবার চিন্তাচেতনায় ব্রত হন।
জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টির কারণ জানতে চাইলে এই যুবলীগ নেতা জানান, ‘আমি বাংলাদেশের তিনটি বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ২২ বছরের চাকুরি জীবন শেষে অবসর গ্রহণ করি। আমার চাকুরি জীবনের কর্মস্থল থেকে সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণ ও নীতি আদর্শের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবন শেষ করেছি। সেনাবাহিনীতেও যেমন কাজ ছিল দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করা, তদ্রুপ এখন অবসর হয়েও সেই ধারাবাহিকতায় আমার চারপাশের আপামর জনগণের সেবা করতে চাই। আসলে সেবা করতে চাইলেই তো আর করা যায় না। তার জন্য একটা প্লাটফর্ম লাগে। এ জন্য চাকরি জীবন শেষ করে এলাকায় এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও ভালোবাসায় উজ্জীবিত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে যোগদান করি এবং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দ আমাকে এই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেন। এখান থেকেই নতুন করে আবার অসহায় সাধারণ মানুষের সেবার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই।”
তিনি বলেন, “প্রায় ষাটের দশক থেকে অনবদ্য পদ্মার ভাঙনের কবলে ইউনিয়নটির প্রায় ৬০ ভাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও বর্যা মৌসুমে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে জরুরি ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ মমতাজ বেগম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. গোলাম মহীউদ্দীন এঁর উদ্যোগে বেশ কিছু জায়গা জুড়ে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা হলেও ভাঙন রোধ হয়েছে। এই নদী ভাঙন রোধের কাজগুলো যেন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকে, আমি তার সুব্যবস্থার জন্য কাজ করব। যুবসমাজ মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে যেভাবে পরিত্রান পায়, তার জন্যও আমার মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন চলমান থাকবে এবং সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো, ইনশাল্লাহ।”
এছাড়াও তিনি আরও জানান, “ইউনিয়ন পরিষদের সকল উন্নয়নমূলক বরাদ্দকে মেম্বাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সকল প্রকার অনুদান ও ভাতাসমূহ সঠিকভাবে প্রাপ্য ব্যক্তিদের প্রদান করা হবে। এখনও যে সকল রাস্তাঘাটগুলোর কাজ করা হয়নি, আমি নির্বাচিত হতে পারলে দ্রুততার সাথে পর্যায়ক্রমে সেগুলো করার উদ্যোগ গ্রহণ করব, ইনশাল্লাহ।”
উল্লেখ্য, এ উপজেলায় ভোট গ্রহণ আাগামী ৫ জানিয়ারি। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ৪৭১২ জন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button