কাঁদলেন নাটোরের বিদায়ী পুলিশ সুপার, কাঁদালেন সবাইকে

নাটোর প্রতিনিধি: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, সম্মান ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নিজে কাঁদলেন এবং সবাইকে কাঁদালেন পাবনার বিদায়ী মানবিক ও নন্দিত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। সম্প্রতি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ডিএমপিতে তাকে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু নাটোরে মাত্র তিন বছরের কর্মকালে তার ভালো কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন তিনি । আর এ সময়ের মধ্যে নিজ কর্মগুণে জয় করেছেন জেলাবাসীর মন। এই অল্প সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করে গেছেন মানবিক কাজ। ভালো কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন মানুষকে। সবার মনে নাড়া দেওয়া এ মানুষটি দ্রুত বিস্তার করেছেন মানুষের মনে। সবার সঙ্গে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব। কিন্তু এ মানুষটির বিদায়বেলায় কার ভালো লাগবে? তাই অনেকেই কেঁদেছেন নিভৃতে। কেউবা ফুলের পাপড়ি ছিটানোর আড়ালে মুছেছেন অশ্র“। তাইতো বিদায় বেলায় ভাসলেন প্রশংসা, আবেগ ও ভালোবাসায়, সিক্ত হলেন ফুলেল শুভেচ্ছায়। পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা চলে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছে নাটোরের মানুষ। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি জেলা পুলিশ সদস্যরাও যেন তাকে ভুলতে পারছেন না। অনেকেই বিদয়ী পুলিশ সুপারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
বুধবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নাটোরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বিদায়ী পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাকে বহনকারী গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে ফুলেল রশি টেনে রাস্তায় তুলে দেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তার গাড়িতে ফুল ছিটিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান পুলিশ সদস্যরা। গাড়িতে উঠে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ত্যাগ করার সময় আবেগ আপ্ল“ত হয়ে পড়েন বিদায়ী পুলিশ সুপার। এ সময় অনেক পুলিশ সদস্যের চোখে পানি চলে আসে নিজেও কাঁদলেন সবাই কে কাঁদালেন ।
বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিদায়ী পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা নবাগত
পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর আগে দুপুরে নাটোর পুলিশ
লাইন্স ড্রিল সেভে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্যে বলেন, নাটোরের বিদায়ী পুলিশ সুপারকে তাঁর সততা, নিষ্ঠা, সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ পেশাগত কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ভাল কাজ করলে মানুষ মনে রাখে-এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ নাটোরের বিদায়ী পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বলেন, নাটোরবাসীর ভালবাসায় তিনি মুগ্ধ। সারাজীবন নাটোরের মানুষের এই ভালবাসা মনে রাখবেন। এ সময় পুলিশ সুপার আবেগপ্রবণ হয়ে অশ্র“সিক্ত হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরও এ সময় চোখ মুছতে দেখা যায়। ‘আপনাদের সঙ্গে আমার স¤পর্ক আজীবন থাকবে। আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনারা আমার মনের ভেতরে থাকবেন। নাটোরের মানুষের ভালোবাসা আমার দায়িত্বভার বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার ১৮ বছরের কর্মজীবনে এমন সুন্দর মুহূর্ত কখনো কাটেনি। যা নাটোরে এসে কেটেছে। নাটোর আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমাকে পদক দিয়েছে, প্রমোশন দিয়েছে, দক্ষ অভিজ্ঞা অর্জন করতে সাহায্য করেছেন। আমার মনে হয়, নাটোরে যদি আবার আমার কোনো পদে পোস্টিং হতো, তাহলে আমি নাটোরেই থেকে যেতাম। এ সুযোগ নেই, তাই আমি চলে যাবে। নাটোরকে আমি কখনো ভুলবে না। আপনাদের সহযোগিতা আর ভালোবাসায় আজ আমি মুগ্ধ। সামনে যিনি আসবেন তাকেও আপনারা আমার মতো সহযোগিতা করবেন এ প্রত্যাশা করছি।




