মহানগরশিরোনাম

করোনা চিকিৎসায় অনীহা : চট্টগ্রামে ১০ চিকিৎসক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) উদ্যোগে স্থাপিত ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ১০ চিকিৎসককে চাকুরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।
একই অভিযোগে একজন স্টোর কিপারকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি খুব দুঃখজনক। চিকিৎসকের মতো মহান পেশায় থেকে যারা রোগীদের সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করবে, তাদের সিটি করপোরেশনের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করার যোগ্যতা রাখে না। তাই চসিকের ১০ মেডিকেল অফিসার ও একজন স্টোর কিপারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ দুঃসময়ে এই দশ চিকিৎসক করোনার রোগীর চিকিৎসায় চসিকের উদ্যোগে স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করতে অনীহা প্রকাশ করা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায়। প্রয়োজনে এসব চিকিৎসকদের ডাক্তারি পাসের সনদ বাতিলে বিএমডিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশই নগরের। সেই বিবেচনায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় ২৫০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তথ্যমন্ত্রী মহোদয় এর উদ্বোধন করেছেন। আইসোলেশন সেন্টারটিতে রোগী ভর্তি ও কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে।
তিনি জানান, অন্য চিকিৎসক নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার চসিকের সচিব স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা সবাই আগ্রাবাদ এক্সেস রোডস্থ চট্টগ্রাম সিটি হল কমিউনিটি সেন্টারে চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এই আইসোলেশন সেন্টারের জন্য ১৬ চিকিৎসককে চসিকের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এনে আইসোলেশন সেন্টারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তারা হলেন চসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. সিদ্ধার্থ শংকর দেবনাথ, ডা. ফরিদুল আলম, ডা. আবদুল মজিদ সিকদার, ডা. সেলিনা আক্তার, ডা. বিজয় তালুকদার, ডা. মোহন দাশ, ডা. ইফতেখারুল ইসলাম, ডা. সন্দিপন রুদ্র, ডা. হিমেল আচার্য্য, ডা. প্রসেনজিৎ মিত্র এবং স্টোর কিপার মহসিন কবির।
এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় চসিকের উদ্যোগে স্থাপিত এই আইসোলেশন সেন্টারটি পরিচালনার জন্য নিয়োগকৃত এসব চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে মেয়র মিটিং করেছিলেন। যারা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সর্ব্বোচ্চ সুরক্ষা ও চাকরি স্থায়ীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও করোনার এই সংকটকালে আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করায় ১০ চিকিৎসক ও একজন স্টোরকিপারকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি রাজস্বে ডাক্তারি পাশ করে রোগীদের সেবা না দেওয়া ‘অমানবিকতা’। তাই এসব ডাক্তারদের স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button