জাতীয়শিরোনাম

করোনায় আক্রান্তের তথ্য গোপন করলে ২ মাসের জেল

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করলে তা শস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জানা সত্ত্বেও ইচ্ছেকৃভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের তথ্য গোপন করলে দুই মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা গৃহে অন্তরীণ (Quarantine) রাখা বা পৃথককরণ (Isolation) করে রাখা হবে।
সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমন বা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা যাবে।
যদি কোনো চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, কোনো বাসগৃহ, প্রাঙ্গণ বা এলাকায় সংক্রামক রোগে অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হন, তাহলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করবেন।
যদি কোনো বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসংগত কারণে ধারণা হয় যে, এই স্থানে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আংক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে তিনি অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন।
মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি মনে হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হলে তার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন, তাহলে এই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাবে।
যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা- ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি এমন বিশ্বাসের যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবাণূ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বা এতে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে, তাহলে তিনি ওই যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণের জন্য গাড়ির মালিক বা সত্ত্বাধিকারী বা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিতে পারবেন।
মৃতদেহের সৎকার – (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করেছেন বলে সন্দেহ হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন বা সৎকার করতে হবে।
মিথ্যা বা ভূল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড – (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহলে ওই ব্যক্তির কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে; (২) যদি কোনো ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোনো অপরাধ করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বিদেশ থেকে প্রত্যাগত কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিবর্গ স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক আরোপিত কোয়ারেন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সবাইকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button