করোনার বিধিনিষেধ তুলে দিল ভিয়েতনাম

নভেল করোনাভাইরাস ‘নিয়ন্ত্রণে আসায়’ সামাজিক দূরত্বের নিয়মসহ অধিকাংশ বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার তুলে দিয়েছে ভিয়েতনাম।
চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনামে এখন পর্যন্ত ২৬৮ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেউই মারা যাননি! ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২৪ জন।
ভিয়েতনাম সেই ফেব্রুয়ারিতে চীনের সঙ্গে আকাশযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রাজধানীর সঙ্গে তখন থেকেই বিচ্ছিন্ন করা হয় গ্রামগুলোকে। এরপর সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ভিয়েতনাম নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পর আমেরিকাকে মেডিকেল সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্যও করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কদিন আগে টুইটে জানান, ‘আজ সকালে টেক্সাসে বন্ধুদেশ ভিয়েতনামের সহযোগিতা এসে পৌঁছেছে।’
ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেডিকেল টেস্ট, কোয়ারেন্টাইন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলায় করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
দেশটিতে প্রথমে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। করোনা সন্দেহে ১ লাখ ২১ হাজার মানুষের টেস্ট করানো হয়।
সেই ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের ৭২ বছর বয়সী এক সমাজকর্মী রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে মানুষকে সচেতন করেন। এএফপির সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন তিনি, ‘আমরা মানুষ থেকে মানুষের কাছে গিয়েছি। সবাইকে আলাদা থাকার বিষয়ে সচেতন করেছি।’
‘সরকার থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা ছিল আমাদের।’
দেশটির এই সাফল্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক কার্ল থায়ার এশিয়া টাইমসকে বলেন, ‘চীন, আমেরিকা যা পারেনি ভিয়েতনাম তাই করে দেখিয়েছে।’
ভিয়েতনাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত থায়ার মনে করেন, দেশটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলেই সফলতা পেয়েছে।




