বিবিধশিরোনাম

করোনাকে হারাতে মাস্কের গুরুত্ব অপরিসীম

কোভিড লড়াইয়ে ‘মাস্ক ইজ ইওর টাস্ক’।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই ঘোষণা করেছিল যে, করোনা লড়াইয়ে মাস্ক অন্যতম প্রধান অস্ত্র। কিন্তু সঠিক ভাবে মাস্ক ব্যবহার না করলে কিন্তু রোখা যাবে না করোনা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, একমাত্র তিন স্তরের মাস্কই করোনার প্রবেশ রুখতে সম্ভব। এমনকি এই দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, মাস্ক যেন মুখ ও নাক সম্পূর্ণ আবরণ করে রাখে। তাই শুধু মাস্ক থাকলেই হবে না, সঠিক ভাবে ব্যবহারও করতে হবে । হার্ভার্ড পাবলিক হেলথ স্কুলের একটি রিপোর্ট বলছে , বিমানে লম্বা সফরের সময়ে একটানা মাস্ক পরে থাকলে সংক্রমণ অনেকটাই রোখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানে এয়ার ফিল্ট্রেশন, হেপা ফিল্ট্রেশন যতটা জরুরি ততটাই জরুরি যাত্রীদের মাস্কের ব্যবহার। বিমান বন্দরে ঢোকা থেকে শুরু করে, বিমান বন্দর থেকে বেরোনো পর্যন্ত যদি মাস্ক মুখে রাখা যায় তাহলে যাত্রীদের মারফত সংক্রমণ ছড়ানো অনেকটাই আটকানো সম্ভব।
সম্প্রতি করোনা পজিটিভ ২ ব্যক্তি প্রায় ১৫ ঘন্টা বিমান সফর করেছিলেন মাস্ক পরে, একবারের জন্যও তারা মুখ থেকে মাস্ক সরাননি , দেখা গেছে ওই বিমানে বাকি ৩৫০ জন যাত্রীদের কারোর মধ্যেই করোনা ভাইরাস মেলেনি। ‘ডেলটা’ এয়ারলাইন্স এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। তারা বিমানে চেক ইন থেকে শুরু করে বিমানে সফররত অবস্থায় যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। ডেলটার আধিকারিকদের মতে, যাত্রীদের সুরক্ষা যেমন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিমান কর্মীদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখাও তাদের কাছে অগ্রাধিকারের মধ্যেই পরে। তাই ব্যাগেজ কাউন্টার থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফ্টের অন্দর , ১০০ শতাংশ জীবাণু মুক্ত রাখার সব রকম পদ্ধতি তারা অনবরত পালন করে চলেছে। যারা মাস্ক পরতে অনীহা প্রকাশ করেছেন তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দিতেও পিছপা হয়নি এই এয়ারলাইন্স। চিকিৎসকদের মতে , করোনা আটকাতে হলে মাস্ক ঠিকঠাক পরলেই অনেকটা কাজ হয়ে যায় ,কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ সেই অর্থে সচেতন নন, তাই তাদের মাস্ক পরতে এতো অনীহা। এই সব দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষদের জন্যই বাকিরা বিপদের মধ্যে পড়েন। জেনে নিন সঠিক মাস্ক ব্যবহার করার উপায়:-
১. মাস্কের উপরের অংশ একেবারেই স্পর্শ করবেন না। যদি মাস্কে ঘনঘন স্পর্শ করেন তাহলে উপরের অংশ দিয়ে করোনা শরীরের মধ্যে প্রবেশের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
২. একই মাস্ক সারাদিন পরে থাকবেন না। সারাদিন ধরে একই মাস্ক পরে থাকলে করোনাভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
৩. কখনই ভেজা মাস্ক ব্যবহার করবেন না। ভেজা মাস্কের দরুণ শুধুমাত্র আপনার শ্বাসকষ্টের সমস্যাই নয় ভাইরাসের প্রবেশের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
৪. মাস্ক যেন আপনার নাককে সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখে। যদি আপনার নাক মাস্কের বাইরে থাকে তাহলে নাকের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
৫. কথা বলার সময় একদম মাস্ক মুখ থেকে সরাবেন না। কথা বলার সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই কথা বলার সময় মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
৬. মাস্ককে পুনর্ব্যবহারের আগে সব সময় ভাল করে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করবেন। তারপর সূর্যের আলোয় ৫ ঘন্টা রাখুন বা ৫ মিনিট ইস্ত্রি করে নিন। তারপরই আবার ব্যবহার করুন মাস্ক।
– সেবন্তী ভট্টাচার্য্য
সুত্র : মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button