slider

কন্যা হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রী ঈশিতা জাহান ইশা হত্যা মামলার পুলিশী তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে অধিকতর তদন্তের দাবিতে ওই মামলার বাদি মোছাঃ মার্জিয়া বেগম সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নিজ বাড়ীতে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, বদরগঞ্জের ছেলে আব্দুল মুনিম সরকার পিতা মৃত-তৈয়ব আলী সরকার, মাতা গুলশান আরা আফরোজ ওরফে লিলি বেগম। সে আমার কন্যা ইশাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। পরিবারের ভয়ে ইশা সে কথা আমাদের জানায়নি। প্রায় পাঁচ বছর আগে আমরা ইশা ও মুনিমের গোপন বিয়ের সংবাদ পাওয়ার পর উভয় পরিবারে আলোচনার মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করি। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করুক এ জন্য দুধাল গাই, জমি বিক্রি করে জামাই মুনিম ও তার পরিবারের হাতে পর্যাক্রমে ৩ লাখ টাকা প্রদান করি। তারপরও কন্যা ইশার কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করে তাঁর শ্বাশুড়ী, ননদ ও ভাসুর শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালাত বলে ইশা আমাদের জানাত। আমরা তাকে মুখ বুঝে সহ্য করার পরামর্শ প্রদান করে সংসার টিকিয়ে রাখার নির্দেশ দিতাম। এরই মধ্যে চাহিদা মতো যৌতুকের টাকা দিতে না পরায় ২০২০ সালে আমার মেয়ে ইশাকে জামাই মুনিম তার মা, বোন ও বড় ভাইয়ের পরামর্শে তালাক প্রদান করে। প্রায় এক বছর পর ২০২১ সালে জামাই মুনিম আমাদের বাড়ীতে এসে আমার কন্যা ইশাকে আর কোন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাকে পুনরায় বিয়ে করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়।
মার্জিয়া বেগম বলেন, আমরা কন্যা ইশার সংসারের সুখের কথা বিবেচনায় কষ্ট চাপা দিয়ে আবার ইশাকে মুনিমের হাতে তুলে দেই। কিন্তু ইশার কপালে সুখ ছিল না। আবার ইশা যৌতুকের দাবিতে তাঁর শ্বাশুড়ী, ননদ ও ভাসুরের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের রোষানলে পড়ে। ইশা মোবাইল ফোনে আমাদের সব বিষয় জানালেও আমরা নিম্ন মধ্য বিত্তের সংসারে টাকা দেয়ার মতো সমর্থ ছিল না। বলেছিলাম- টাকা হলে আরো দুই লাখ টাকা জামাইকে ব্যবসা করার জন্য দেব। ধৈর্য্য ধারণ করতে বল। এর আগেই গত ৭ জানুয়ারী ২০২২ ইশাকে হত্যা করা হয়। আমরা কন্যাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমি বাদি হয়ে ৮ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করি। পুলিশ প্রধান আসামী আব্দুল মুনিম সরকারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ড শেষ করে জেল হাজতে পাঠায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন -২০০০(সংশোধনী)/২০০৩) এর ১১(ক) তৎসহ ২০১ পেনাল কোড ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। কিন্তু মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা বদরগঞ্জ থানার এসআই নিরস্ত্র ওয়ালীউর রহমান বিপি নং -৯১২০২২৬৫২৭ একমাত্র আব্দুল মুনিম সরকারকে আসামী করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আমার কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হয়েছে। কারণ আমার কন্যাকে তার শ্বাশুড়ী গুলশান আরা আফরোজ ওরফে লিলি বেগম, ননদ মনিরা সরকার ও ভাসুর শামীম আহমেদ সরকারের প্ররোচনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন করেছিল জামাই মুনিম। যা ইশা আমাকে বারবার বলেছিল। তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে বদরগঞ্জ পৌরসভার বাসা ছেড়ে গ্রামে বাড়ী বিঞ্ষুপুর কালিগঞ্জের গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছিল ইশা। সেখান থেকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে ইশাকে। এ দুঃখ প্রকাশের কোন ভাষা নেই।
মার্জিয়া বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, হত্যা কোন সমাধান হতে পারে না। আমাদের টাকা দিয়ে জামাই মুনিম সিসি ক্যামেরা, ল্যাপটপ, মোবাইল ও সার্ভিসিং এর ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসার জন্য আরো টাকা দিতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সময় দেয়নি ওই নিষ্টুর ঘাতকেরা। ইশা হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছে তার শ্বাশুড়ী গুলশান আরা আফরোজ ওরফে লিলি বেগম, ননদ মনিরা সরকার ও ভাসুর শামীম আহমেদ সরকার। তাদের অব্যাহতি দিয়ে বদরগঞ্জ থানার এসআই (নিরস্ত্র) ওয়ালীউর রহমানের তদন্ত প্রতিবেদন মানি না। আপনাদের মাধ্যমে প্রিয়কন্যা ঈশিতা জাহান ইশা হত্যা মামলার এসআই (নিরস্ত্র) ওয়ালীউর রহমানের তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে অধিকতর তদন্তের দাবি জানাই। আপনারা লেখনির মাধ্যমে এটি প্রচার করবেন এই আশা করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button