slider

কটিয়াদীতে ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

রতন ঘোষ, কটিয়াদী,প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মাঘের শুরুতে হাড় কাঁপানো শীতের কামড়ে কাঁপছে উপজেলাবাসী। ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ ও পশুপাখি। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু ও বয়স্করা। মাঘের প্রথম কয়েকদিন ধরে চলছে মৃদু মৃদু শৈত প্রবাহ, আজ বুধবার সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত উপজেলার কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই সর্বত্র ঘনকয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো। তাপমাত্রা নেমে আসার পাশাপাশি প্রচন্ড হিমেল হাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা । মাঘের এই ঘনকুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে উপজেলাতে জেঁকে বসেছে শীত। গরম কাপড় ছাড়া সাধারণত কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। ঘরের মধ্যে শীতে জবুথুবু অবস্থা ।

বৃষ্টির মতো ঝরা কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময়। ঘড়ির কাটায় সময় পেরিয়ে গেলেও দেরিতে আসা সকাল দিয়েই শুরু হয় দিনের যাত্রা। এরপর এক চিলতে মিষ্টি রোদের আশায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকে মানুষ। একসময় এর দেখা মিললেও কিছু পরে কুয়াশায় ফের মিলিয়ে যায়। কমে গেছে দিনের দৈর্ঘ্য। নির্ধারিত সময়ের আগে রাতের আলিঙ্গনে নির্জনতায় ডুবে যায় চারদিক। এ অবস্থায় সর্বক্ষণ বয়ে চলা মৃদু বাতাসে ঠান্ডা বেড়েছে আরো। হাড় কাঁপানো এ ঠান্ডায় অস্থির হয়ে পড়েছে সবাই। অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বাড়ছে শীতবস্ত্রের চাহিদা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘণকুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারনে প্রধান প্রধান সড়ক গুলিতে গণপরিবহন ছিলো কম। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাজারে আসতে দেখা যায়নি । এদিকে শীত জেঁকে বসায় গরম কাপড়ের দোকানে উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে । ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়া যুক্ত হয়ে জনজীবন নাকাল করে তুলেছে । দুপুরের আগে এমনি কোন কোন দিনের শেষ অংশেও সূর্যের দেখা মিলছে না। প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারনে খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ বিশেষ করে ভ্যান-রিক্সা শ্রমিক ও কৃষক-কৃষানীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । কনকনে ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে বিশেষ করে এ উপজেলার জনগণ শীতের দাপটে কাবু হয়ে পড়েছে। অনেকেই রান্নার চুলায় অথবা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, পৌরসভা-১ ও ০৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় শীতবস্ত্রের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার। আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি মাত্র ৩ হাজার ৫শ’ কম্বল। যা ২৩ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আরো চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পেলে তা বিতরণ করা হবে। এই ঠান্ডায় বিপদে পড়েছেন বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা। ঘনকুয়াশা আর হিমেল হাওয়া তাদের শরীরে বিধছে সুঁইয়ের মতো। গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে ও খরকুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করলেও যেন তা যথেষ্ঠ নয়। ঠান্ডা জনিত জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ মহূর্তে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। আক্রান্তরা বেশিরভাগই আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button