শিক্ষাশিরোনাম

উদ্বিগ্ন নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবক, ডিবিতে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে ডিবি পরিচয়ে ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চারদিন পরও ১২ শিক্ষার্থীকে এখনো আদালতে তোলা হয়নি। অন্যদিকে, ডিবিতে রেখে তাদের অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিভাবকরা।
রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থী হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু আল আমিন ও জহিরুল ইসলাম হাসিব, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম, সরকারি তিতুমীর কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম, অনার্স ফলপ্রার্থী সাইফুল্লাহ বিন মনসুর, মিরপুর সাইক মেডিকেল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী গাজী মো. বোরহান উদ্দিন, ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী তারেক আজিজ-১, মাহফুজ, রায়হানুল আবেদীন, ইফতেখার আলম, তারেক আজিজ-২ ও মেহেদী হাসান রাজিব।
এ সময় সাইফুল্লাহ বিন মনসুরের পিতা মানসুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টাঙ্গাইল করোটিয়া সরকারি সাদাত কলেজ থেকে মনসুর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। সাইফুল্লাহর ছোটভাই সিফাত ঢাকা পলিটেকনিকে পড়ে। এসিআই কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে তার ট্রেনিং করার জন্য ছোট ভাইয়ের কাছে ওঠে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে দুই ভাইকেই ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়। দুই দিন পর সিফাত ছাড়া পায়। তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে ডিবি সদস্যরা। সে জানায়, মনসুরসহ বাকিরা সবাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আছে।
মানসুর রহমান আরও বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের ফেরত চাই। তারা কোনো দোষ করে থাকলে তাদের আদালতে তোলা হোক। গত চারদিন ধরে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সময় কাটালেও কেউ তার খোঁজ দিতে পারেনি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় গেলেও কোনো প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি। ডিবি থেকে কখনো বলা হয়েছে, আজ নয় কাল তোলা হবে। রোববার সকাল ১১টার দিকে তোলার কথা থাকলেও কখনো বলা হচ্ছে নেই, আবার কখনো বলা হচ্ছে আছে। জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমাদের সন্তানদের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সরকার যদি আমাদের সন্তানদের নিয়ে কোনো নাটক সাজানোর চেষ্টা করে তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে আমরা অভিযোগ পেশ করতে বাধ্য হবো।
ফেনীর সোনাগাজী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম হাসিবের পিতা এনামুল হক বলেন, সড়ক আন্দোলনের সময় ২ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফেনীতে ছিল হাসিব। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসে। ওই রাতেই মহাখালীর মেস থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। আমরা সন্তানদের ফেরত চাই। অপরাধী হলে আদালতে পাঠানো হোক। অন্যথায় নির্যাতন না করার জন্য অনুরোধ করে ডিবি পুলিশকে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে আসা ঢাকা পলিটেকনিকের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার আলমের বড়ভাই রাশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেকে হারিয়ে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সে কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। সে কোনো আন্দোলনেও অংশ নেয়নি। এরপরও কেন তাকে ধরে নিয়ে গেলো ডিবি বুঝতে পারছি না। আমি আমার ভাইকে ফেরত চাই।
কুমিল্লা থেকে আসা ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী রায়হানুল আবেদীনের পিতা রফিক উদ্দিন বলেন, মহাখালী রসুলপুর ছাত্রাবাস থেকে রায়হানুলকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কি দোষে তাদের নেওয়া হয়েছে তা জানি না। ডিবিতে কয়েকদিন গিয়েও ছেলের খোঁজ মেলেনি। থানা পুলিশও সহযোগিতা করছে না। জিডি করতে গেলে পুলিশ জানিয়েছে, ডিবির বিরুদ্ধে জিডি নেওয়া হবে না। আবার শুনছি, ডিবি কার্যালয়ে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। সন্তানদের আমাদের বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেনের মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কি হয়েছে তা পুলিশ পরবর্তীতে জানানোর একটি পরিকল্পনা করছে।
সারাবাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button