ইফতারে খেজুর খাওয়া সুন্নাত এবং অনেক উপকারী

আবু তালহা তোফায়েল : রোজা রেখে খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত। খেজুর হলো সর্বোত্তম খাদ্য। খেজুর বিহীন বাড়ীর পরিবার যেন ক্ষুধার্ত পরিবার। খেজুর হলো জাদু ও বিষ প্রতিরোধক। মদীনার খেজুর হলো সবচেয়ে উত্তম খেজুর। বিশেষ করে সর্বোত্তম খেজুর হলো ‘আজওয়া খেজুর’। তাছাড়া আমাদের প্রতিদিনের নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর খাওয়া যেমন একদিকে সুন্নাত, অপর দিকে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক।
তাই বিশেষত রমজানে খেজুরের কদর বেড়ে যায়। খেজুর না থাকলে আমাদের ইফতার যেন পরিপূর্ণ হয় না।
কিন্তু কী আছে এই খেজুরে, আমরা কেন এত গুরুত্বের সঙ্গে খেজুর খাই?
আমরা হয়তো অনেকেই জানি মিষ্টি মধুর ছোট এই ফলটির গুণের কথা।
হাদিসে এসেছে-হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী।
তাছাড়া একটা কথা বলা হয়ে থাকে বছরে যতোগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুণ রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল।
উৎকৃষ্ট খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পটাসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে সহ প্রচুর খাদ্য গুণ রয়েছে । যা প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা পূরন করতে সাহায্য করে।
অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রচুর শক্তি, শর্করা ভিটামিন, মিনারেল সমৃদ্ধ খেজুর খেলে:
• খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর হয়
• খেজুর স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে
• রোজায় অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকা হয় বলে দেহের প্রচুর গ্লুকোজের দরকার হয়
• খেজুরে অনেক গ্লুকোজ থাকায় এ ঘাটতি পূরণ হয়
• হৃদরোগীদের জন্যও খেজুর বেশ উপকারি
• খেজুরের প্রচুর খাদ্য উপাদান রয়েছে
• খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী
• হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক
• রুচি বাড়ায়
• ত্বক ভালো রাখে
• দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
• খেজুরের আঁশ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
• পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী
• ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে
• অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে
• এছাড়াও এ ফল প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
লেখক: সাংবাদিক


