আম্পায়ারের ভুল সিদ্বান্ত: শ্রীলংকার অভিনব প্রতিবাদ

নো-বল নিয়ে আম্পায়ারের ভুল সিদ্বান্তে জাতীয় পতাকা দিয়ে প্রতিবাদ জানালো শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শ্রীলংকার নুয়ান প্রদীপের বলে বোল্ড আউট হন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান এ্যালেক্স হেলস। কিন্তু প্রদীপের এই ডেলিভারিটিকে নো-বল হিসেবে ডাক দেন ওই ওভারটি পরিচালনা করা আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার। ফলে এ যাত্রায় বেঁচে যান হেলস। কিন্তু এরপরই ঘটে ব্যাঘাত। টিভি-রিপ্লেতে দেখা যায় প্রদীপ সম্পূর্ণভাবে বোলিং ক্রিজের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রীলংকার ড্রেসিং রুম। তাই আম্পায়ারের এমন সিদ্বান্তকে ড্রেসিং রুমে বসেই প্রতিবাদ জানায় লংকানরা। ড্রেসিং রুমের সামনের ব্যালকনিতে নিজেদের পতাকা টানিয়ে প্রতিবাদ জানায় তারা।
লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৪১৬ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে জনি বেয়ারস্টো সর্বোচ্চ ১৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৮৮ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ১২৮ রানের লিড পায় ইংলিশরা।
সেই লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। ইনজুরির কারণে এই ইনিংসে ওপেনার হিসেবে নামেননি ইংলিশ অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক। ফলে তার জায়গা ওপেনার হিসেবে নামেন নিক কম্পটন। তার সঙ্গী ছিলেন হেলস। যিনি লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনের ঘটনার একটি অংশ।
সেই ঘটনার ব্যাখায় আসা যাক। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের ৪৬তম ওভারে বল হাতে আক্রমণে আসেন শ্রীলংকার পেসার প্রদীপ। ওই ওভারের চতুর্থ বলে প্রদীপের উইকেট উপড়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু ওই বলটি নো-বল হিসেবে ডাক দেন ওই ওভারের আম্পায়ার টাকার। ফলে ৫৮ রানে আউট হতে যাওয়া হেলস পান নতুন জীবন। কিন্তু টিভি রিপ্লে’তে দেখা যায় বোলিং ক্রিজের নির্দিষ্ট সীমা পুরোপুরি অতিক্রম করেননি প্রদীপ। এতেই ঘটনার বিস্তার লাভ করে ভয়ংকর রুপে। আম্পায়ারের ভুল সিদ্বান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শ্রীলংকার ড্রেসিং রুম।
বাকরুদ্ধ হয়ে সাথে সাথেই ওই সিদ্বান্তের প্রতিবাদও জানায় শ্রীলংকানরা। প্রতিবাদের ভাষায় তাদের সঙ্গী ছিলো জাতীয় পতাকা। নিজেদের ড্রেসিং রুমের ব্যালকনিতে শ্রীলংকা পতাকা টানিয়ে দেয় তারা। পরে অবশ্য পতাকার টানানোর ব্যাখাটা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্রীলংকার কোচ গ্রায়েম ফোর্ড। দিনের খেলা শেষ হবার পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ ফোর্ড বলেন, ‘নো-বলের সিদ্বান্ত দেয়ার বিষয়টি নিজ দায়িত্বে নিয়ে নিতে পারে আইসিসি। অবাক করার মতো বিষয়, টেকনোলজির দিক দিয়ে এতো উন্নত হবার পরও এমন ভুল কিভাবে হয়। তাই এসব সিদ্বান্তের সঠিক ফল আসবে, যদি নো-বলের ব্যাপারে আইসিসি সকল সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের উপর দিয়ে দেয়। তবে এভাবে চলতে থাকলে ক্রিকেট হাসির পর্যায়ে চলে যাবে। কিন্তু আমরা এসব চাই না।’
নতুন জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানে আউট হন হেলস। এই ঘটনার ব্যাখা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সহানুভূতি জানাচ্ছি প্রদীপ ও রডকে। তবে এটাও দেখতে হবে সীমারেখার কোন পর্যায়ে ছিলো প্রদীপের পা’টি। রড আমাকে বলেছে- সামনের পা’র ব্যাপারে প্রদীপকে সে কয়েকবারই সতর্ক করেছে।’ – See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/127380#sthash.dc5hd9nI.dpuf




