রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলা আড়িয়লখাঁ নদের প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি অবৈধ জালের বাঁঁধ দেওয়া হয়েছে। এ সমস্ত জালের বাঁঁধ গুলো নদের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আড়া আড়ি ভাবে দেওয়ায়, মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব জালে ছোট ছোট পোনা মাছ সহ বিভিন্ন জলজ প্রানী আটকা পড়ছে। সেই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল।
সরেজমিনে দেখা গেছে উক্ত নদে বাঁশ, কাঠ ও বাঁশের বানা দিয়ে উঁচু করে কাঠামো তৈরি করে কারেন্ট জাল বসানো হয়েছে। জাল ফেলার অংশটুকু ছাড়া নদে মাছের চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ। কোথাও কোথাও নদীর এক পার থেকে অন্য পার পর্যন্ত কারেন্ট জাল টানানো হয়েছে। এসব জালে দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজপ্রাণীও ধরা পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ এসব জালের কারণে ছোট বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় জালের কারণে নদে আটকে থাকতে হচ্ছে মালবাহী নৌযানকেও।
এ ব্যাপারে কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কাউসার মিয়া বলেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরদিকে মনোহরদী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফি আফরোজ সনি বলেন, নতুন করে বিভিন্ন স্থানে জালের বাঁধ দেয়ার বিষয়টি শুনেছেন। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রবাহমান নদে জালের বাঁধ আইনত নিষিদ্ধ। অবৈধ জালের বাঁধ থাকলে অভিযান চালানো হবে।
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোজ নিচ্ছি, সত্যতা প্রমাণে আইনগত ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।