রাসেল আহমেদ সাটুরিয়া প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তারা সীমা এ্যাপারেলস লিমিটেড এ চাকুরি দেয়ার বিনিময়ে সাধারণ শ্রমিকের কাজ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।
রবিবার (৩০ আগষ্ট) রবিবার সাকিল আহম্মেদ গেট থেকে বাছাই হয়ে ইন্টারভিউর জন্য ভেতরে প্রবেশ করে। ইন্টারভিউ বোর্ডে জমাকৃত কাগজ পত্র জাল বলে সন্দেহ হলে শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বলে আমি ফ্যাক্টরীর বাহির থেকে অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছি এবং চাকুরীর জন্য ২২ হাজার টাকা দিয়েছি। তারা সীমা এ্যাপারেলস এর ডিজিএম ইসমাইল হোসেন ব্যাপক অনুসন্ধান পুর্বক কারখানার ভেতরের আলমগীর নামক এক শ্রমিকের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানতে পারে জুলাই আগষ্ট মাসে নিয়োগ পাওয়া নয় জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে। টাকা দিয়ে চাকুরী নেওয়া সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে তারা আলমগীর কে টাকা দিয়েছে। আলমগীর কে দুই দিনের মধ্যে সবার টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর কারখানায় কর্মরত, ফারজানা ২৫ হাজার, রুবেল মিয়া ২০ হাজার, শিলা আক্তার ১২ হাজার, পারভীন সুলতানা ১২ হাজার, আশিক মিয়া ১২ হাজার, ওসমান গণি ২৪ হাজার টাকা, সোমা ১৯ হাজার পাঁচশত টাকা, শারমিন আক্তার ১২ হাজার, শাহানাজ আক্তার ২৫ হাজার টাকা আলমগীরের কাছ থেকে আদায় কারখানার উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা ফেরত প্রদান করে। কারখানার ভেতর টাকা লেনদেনের সাথে জড়িত সবাইকে শোকজ করে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানায়, কারখানার শ্রমিক বাছাইয়ের ইসরাফিল, শহিদুল কে টাকা দিতে হবে বলে আলমগীরকে টাকা দিয়েছিল। কারখানার বাইরে দোকানদার সেলিমের মাধ্যমে আলমগীরের সাথে পরিচয়।
শ্রমিক আলমগীর বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ কারখানা কাজ করছি। আগে এমন কাজ করিনি। কারখানার বাইরে কিছু লোক আমার কাছে এমন কিছু চাকুরী প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিত। তারাও আমার কাছ থেকে টাকা নিত। যাদের চাকুরী না হতো তাদের টাকা ফেরৎ দিয়ে দিতাম। এ ব্যাপারে ফ্যাক্টরীর কোন কর্মকর্তা জড়িত নাই বলে জানায়।
শ্রমিক বাছাইয়ের এইচ আর ইসরাফিল জানান, প্রতিদিন সকাল আট টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত ফ্যাক্টরীর বাইরে চাকুরী প্রার্থীর লাইন থেকে বাছাই করে ইন্টারভিউ বোর্ডে পাঠানো আমার কাজ। শ্রমিক বাছাইয়ের সময় অনেক সুপারিশ আমার কাছে আসে। কোম্পানির স্বার্থ দেখাই আমার কাজ। দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ আমি নিষ্ঠার সঙ্গে এ কাজ করে যাচ্ছি।
তারা সীমা এ্যাপারেলস এর ডিজিএম ইসমাইল হোসেন বলেন, গার্মেন্টস বা পোশাক কারখানায় অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলা সম্পূর্ণ একটি প্রতারণা ও অবৈধ প্রক্রিয়া। কোনো বৈধ পোশাক কারখানা বা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কখনোই চাকরি দেওয়ার জন্য কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অগ্রিম টাকা দাবি করে না। এই ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক করেন।