অবৈধ যানজটে দুর্ভোগ হাতিয়াবাসী

মোঃ হানিফ উদ্দিন সাকিব,হাতিয়া প্রতিনিধি : সিএনজি- অটোরিকশা এবং পাওয়ারটিলার সহ অবৈধ যানের দখলে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের সড়ক। ছোটশহরে বড় যানজট রীতিমতো যেনো নাকাল করে তুলছে এ উপজেলার প্রধান শহর সহ প্রত্যন্ত এলাকার জনমানুষকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেন যানজট লেগেই থাকে এ দ্বীপ উপজেলার পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট সহ অন্যান্য বড় বাজারগুলোতে।
যত্রতত্র ছোট-বড় গাড়ির পার্কিং ও নলচিরা- জাহাজমারা প্রধান সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা বাজার সমূহে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফুটপাত দখল করে দোকানপাট এবং মোড়ে মোড়ে সিএনজি-অটোরিকশা, পাওয়ার টিলারের অস্হায়ী স্ট্যান্ডের কারণে এই দ্বীপ উপজেলার ওছখালী পরিষদ এলাকার জিরো পয়েন্ট সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এরিয়ায় যানজট স্হায়ী রূপ নিয়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় যানজটের কারণে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালের সামনে থেকে বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট এর লিঙ্ক রোড সমূহে অন্তত সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোবাইক, সিএনজি, হোন্ডা, নচিমন, পাওয়ার টিলার ও জিপ গাড়ির দাপট দিনদিন বেড়ে চলেছে।
অবৈধ এসব যান সমূহের বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন গতির ফলে কতো মানুষের যে প্রাণ গেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রতিদিন-ই ঘটতে থাকে সড়ক দূুর্ঘটনা। এ প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত সর্বশেষ গতকাল সোমবার দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫ টায় প্রধান সড়ক সংলগ্ন পৌরসভার মোসলেহ উদ্দিন রোড়ে এমন দু’টি ঘটনা ঘটে। এতে ৫নং ও ৮নং পৌর ওয়ার্ডের রাবেয়া (৩৫) নামের ১ নারী ও ২ শিশু মারাত্মক আহত হয়।
জানা যায়, হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে হরনী, চানন্দী এবং নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন (মূল সীমানা থেকে অর্থাৎ মেঘনা নদীর উত্তরে ও দক্ষিণে হওয়ায়) ছাড়াও ৩৫ কিলোমিটারের নলচিরা-জাহাজমারা প্রধান সড়কে চলে প্রায় ছয় হাজার অবৈধ গাড়ি। ভাড়ায় চালিত হোন্ডা, সিএনজি এবং নচিমন কমিটির তথ্য মতে- সমিতিতে ভর্তি নেই এমন অগণিত ও অসংখ্য অবৈধ গাড়ি চলাচল করে এ সড়কে। গাড়ির সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ভাড়ায় চালিত যান সমূহ ঠিকমতো যাত্রী না পাওয়ায় চালকেরাও আছে বেকায়দায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাড়ায় চালিত হোন্ডা এবং সিএনজির কয়েকজন ড্রাইভার জানান, গাড়ি ভর্তির সময় সমিতিতে জমা দিতে হয় ৯-১৩ হাজার টাকা এর সাথে প্রতিদিন জিপি কাটতে হয়। এছাড়া প্রশাসনের কিছু জায়গায়ও নাকি মাসোয়ারা দিতে হয় তাদের।
আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া এ অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যানযট কমিয়ে আনা সহ রাস্তায় পার্কিং রোধকল্পে গত মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং-এ হাতিয়া পৌরসভার মেয়রকে ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে পৌর মেয়র এ কেম এম ওবায়েদ উল্লাহ বিপ্লব বলেন, মাঠে শুধু আমি কাজ করি, অন্যরা দেখেনা।
এদিকে সড়কপথের নাকাল পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় তুলে ধরে নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম হোসেন’কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট’দের এ ব্যাপারে দায়িত্ব তো দেয়া হয়েছে। যাক এরপরও আমরা এ বিষয়ে কাজ করবো, আশা রাখি অচিরেই অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি পৌর মেয়র এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার জন্য আবারও অনুরোধ জানান।
পরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন’কে হাতিয়ার সড়ক পথ অবৈধ যানের দখলে যাওয়া এবং জন-দুর্ভোগের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে আমাদের ফোর্স সংকট দেখা দিলে তখন চেকপোস্টে একটু সমস্যা হয়, তাছাড়া আমরা প্রায়ই যানজট এবং গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে কাজ করে থাকি।




