sliderউপমহাদেশশিরোনাম

ভোট জালিয়াতির কথা স্বীকার করে রাওয়ালপিন্ডির কমিশনারের পদত্যাগ

পাকিস্তানে ভোট জালিয়াতি এবং কারচুপির ব্যাপক অভিযোগের মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের কমিশনার লিয়াকত আলী চাথা শনিবার নির্বাচনে অনিয়মের কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।

শনিবার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে লিয়াকত আলী বলেন, তিনি রাওয়ালপিন্ডি বিভাগের জনগণের সাথে ন্যায়বিচার করেননি।

তিনি স্বীকার করেন যে রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে ‘জালিয়াতি’ হয়েছে এবং তিনি এর দায়দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরাজিত প্রার্থীকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছি।’ তিনি তার বক্তব্য প্রদানের পর নিজেকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার বিভাগের রিটার্নিং অফিসাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’ তিনি বলেন, তার অধীনস্তরা তাদেরকে অন্যায় করার নির্দেশ দেয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল।

তিনি আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমরা দেশের সাথে অন্যায় করেছি।…আমাকে রাওয়ালপিন্ডির চাচেরি চকে ফাঁসিতে লটকানো হোক।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সামাজিক মিডিয়া এবং বিদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের কাছ থেকে তিনি চাপে ছিলেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে তিনি এমনকি আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কারা এ ধরনের ভুল কাজ করেছে এবং কারা এর পেছনে দায়ী, তা কারো অজানা নয়।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পরিষদে পরাজিত ১৩ জনকে ৭০ হাজার পর্যন্ত ভোটে জয়ী করা হয়েছে।’

এদিকে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) রাওয়ালপিন্ডি কমিশনারে লিয়াকত আলীর ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কমিশনের কোনো কর্মকর্তাকে ফলাফল পাল্টে দেয়ার কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

তবে ইসিপি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে।

এছাড়া পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভিও বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি, জামায়াতে ইসলামিসহ বিভিন্ন দল ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে বলে দাবি করেছে।

সূত্র : ডন, দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button