sliderস্থানীয়

নওগাঁয় ডায়াগনস্টিক ব্যবসার আড়ালে প্রতারনার অভিযোগ!

কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় ‘হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’র নাম,প্যাড, লাইসেন্স এবং সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে ডায়াগনস্টিক ব্যবসার নামে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হুদা জুয়েল নামে একজনের বিরুদ্ধে। তিনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গত তিন মাস যাবত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে এমন প্রতারণা চালিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন দপ্তর।
জানা গেছে, নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার সাহারা প্লাজা নামের একটি ৫তলা বিশিষ্ট ভবনের ১ম এবং ২য় তলা ১৫লক্ষ টাকা জামানত এবং মাসিক ৩৬হাজার টাকা ভাড়ায় গত ২০০১ সাল থেকে আতোয়ার, সাইফুল, রেজাউল, প্রদীপ, খয়বর এবং মহব্বত সহ ৬জন ‘হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’র নামে সরকারী বিধি মোতাবেক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ ভাবে ব্যবসা করে আসছেন।
‘হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ গত এপ্রিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের কার্যক্রম শহরের জনৈক কাজী কামরুজ্জামানের শেলী প্লাজার নিচতলায় স্থানান্তর করলে সাহারা প্লাজা ভবনের মালিক এবং সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা জুয়েল ‘হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’র নাম, প্যাড, লাইসেন্স এবং সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গত তিন মাস যাবত অবৈধ ভাবে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
গত ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশের অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও বিনা বাধায় নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে আগের মতোই রোগী দেখছেন ডা. সুলতানা আফরোজ, ডা. রতন কুমার সিংহ এবং ডা. এমদাদুল হক।
এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়ছেন গোলক ধাঁধায়। সেবা নিতে আসেন পৌরসভার মশরপুর এলাকার রফিক, চকবাড়িয়ার আব্দুর রহিম এবং একই এলাকার হিরা বেগম। অনিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন যাবত এখান থেকে বিভিন্ন প্রকার মেডিক্যাল রিপোর্ট করে আসছি। এখানে আসার পরে কেউতো বলেনি যে আগের হলিপ্যাথ ডায়াগনিস্টিক কমপ্লেক্স এখান থেকে চলে গেছে। তাছাড়া এখানকার সকল কাগজপত্রে ‘হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’ লেখা আছে। আমরা কিভাবে বুঝবো,কোনটা আসল আর কোনটা নকল?’
অন্যের নাম,প্যাড, লাইসেন্স এবং সাইনবোর্ড ব্যবহার বিষয়ে নাজমুল হুদা জুয়েল বিষটি আইনত অপরাধ তবে আমি ‘হলিপ্যাথ ডিজিটাল ডায়াগনিস্টিক সেন্টার’ নামে আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলে তখন নতুন নামে পরিচালনা করবো। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি করলে নাম সড়িয়ে নেবো।
জেলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমান খোকা বলেন, বিষয়টি অবশ্যই শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এবিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button