sliderস্থানীয়

আ’লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা আটক, সিংড়ায় বিধবার ঘরে যুবক

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের সিংড়ায় এক সংখ্যালঘু বিধবার ঘর থেকে ইউনুস আলী নামের একজন মুসলিম যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাাটি সোমবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ঘটেছে। ইউনুস আলী বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল এলাকার তয়জাল ইসলাম এর পুত্র। অভিযোগ উঠেছে লক্ষাধিক টাকায় তাঁদেরকে ছেড়ে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা। পুলিশ এ ঘটনায় ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী ও যুবলীগের কর্মী সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ধান কাঁটতে এসে মৃত গোপালের স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় ইউনুস আলীর। এরপর তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। মোবাইল-ফোনে যোগাযোগ করে সোমবার সন্ধ্যায় গোপালের বাড়িতে যায় ইউনুস আলী। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে রাত ১টার দিকে তাঁদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ইউনুস আলীকে বারান্দার খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
জানা যায়, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী, ইউপি সদস্য কুরবান আলী, আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আরোন, যুবলীগ নেতা সবুজ আলী, সাইফুল ইসলাম, শাহিন আলম, সাদ্দাম হোসেন এর নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদেরকে আটক করে লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংখ্যালঘু বিধবার জমির দলিল গ্রামের মজিবুর রহমান নামের একজনের কাছে রেখে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা ও যুবকের বাবার কাছ থেকে আরও ১ লক্ষ টাকা নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা।
মজিবুর রহমান বলেন, বিধবা নারী আজ আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিন্তু কত টাকা বলা যাবে না, সমস্যা আছে। ঐ নারী নিজেই বলবে।
যুবলীগ নেতা সবুজ আলী জানান, আমরা রাতে তাঁদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করি। সকালে ইউনুস আলীর বাবা বড়াইগ্রামের জনপ্রতিনিধিসহ এসে তাঁকে জুতা মেরে নিয়ে গেছে। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সে।
দুপুরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলীর মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
ইউপি সদস্য কুরবান আলী বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, সকাল থেকে সারাদিন সিংড়ায় মিটিং এ ছিলাম। আমাকে ফাঁসানোর জন্য নাম বলেছে।
ইটালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান রাজা বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সবাই খুবই শৃঙ্খল ও ভদ্র প্রকৃতির মানুষ। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে শুনেছি। তবে তারা টাকা নিয়ে ঐ যুবককে ছেড়ে দিয়েছে কি না জানিনা।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button