শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা: শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহিরাগত এ্যাম্বুলেন্সের চালক দিয়ে রোগীর দেহে ইনজেকশন পুশ করা সহ আবারো নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: নাজির আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদেরকে অবৈধভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরো সরাসরি দেখা গেছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে বহিরাগত এক এ্যাম্বুলেন্সের চালক একজন মহিলা রোগীর দেহে ইনজেকশন পুশ করছে। ওই সময় জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন ডা: আলমগীর হোসেন ও মেডিকেল এ্যাস্ট্যিান্ট আব্দুস সালাম। তাছাড়া জরুরী বিভাগে কোন রোগী আসলে দালালরা জোর করে রোগী নিয়ে বাইরে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এমনকি পরীক্ষা— নিরীক্ষা শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না করিয়ে বাইরে ক্লিনিকে পঠানো হচ্ছে।
দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের অসহায় মোহা: দুরুল হোদা বলেন আমি অত্যন্ত গরীব মানুষ। আমার ছেলে দেলওয়ার হোসেন বিষ পান করলে তাকে চিকিংসার জন্য সরকারী হাসপাতালে নিয়ে আসলে সামান্য এক নাইট গার্ড সেলিম আমার নিকট হতে জোর করে ৫০০ টাকা নিয়েছে। স্থানীয় আরো কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে রয়েছে দালালদের দৌরাস্ত কোন রকমেই থামছে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক কর্মচারী ও কর্মচারীর সাথে স্বয়ং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার–পরিকল্পনা অফিসার ডা: নাজির আহমে্দের অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি কারনে অকারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মচারীর সাথে অমানবিক আচরণ করেন। তাছাড়া তিনি দুপুর ১২ হতে সাড়ে ১২টার পর্যন্ত কোন লোককে তার চেম্বারে প্রবেশ করতে দেন না। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন একমাত্র ডা: নাজির আহমেদের দূর্ব্যবহারের কারণেই স্বাস্থ্য কমপ্লেকে্্র কোন ভাল ডাক্তার থাকছেন না। এসে মাত্র কিছুদিন থেকেই আবার বদলী হয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় গোপন সূত্রে জানা গেছে প্রায় অনেক দিন যাবত স্বয়ংজরুরী বিভাগে এধরনের অবৈধ কাজ চলে আসছে। এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজাহারুল ইসলাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কীটস প্রদানকালে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,বাইর থেকে কেউ এসে বিশৃংখলা ঘটায় বা হাঙ্গামা করা খুবই দু:খজনক। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরি্চ্ছন্নতা দেখে দু:খ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর নজরদারীর জন্য অনুরোধ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে্রর স্বাস্থ্য ও পরিবার–পরিকল্পনা অফিসার ডা: নাজির আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বাকীর করে বলেন, আমি কারো সাথে দূর্ব্যবহার করিনা। আজকেও একজন দালাল ধরেছিলাম। মুচলেকা নিয়ে ছেড়া দেয়া হয়েছে। বহিরাগত এ্যাম্বুলেন্সের চালক দিয়ে ইনজেকশন পুশ করার ব্যাপারে শোকজ করা হয়েছে। জনবল সংকট, আলট্রাসনা মেশিন ও একে¯্রর ফিল্মের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীদেরকে কৌশলে ম্যানেজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করার একটি ভিডিও ছবিতে ঘটনার সত্যতা মিলেছে।