নওগাঁয় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দূর্গোৎসব

শামীনূর রহমান : নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিনব্যপী শারদীয় দূর্গোৎসব শেষ হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধে সকল দর্শনার্থীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরিধান করে পূজা পরিদর্শন করেন।
এ বছরের মত শেষবার পূঁজা মন্ডপে এসে তাই ভক্তরা দেবীর পায়ের সিঁদূরে নিজেদের ভক্তি শ্রদ্ধায় রাঙিয়ে নেয়। দেবীর বিদায়ে অনেকে আবেগে অশ্রু ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। সোমবার বিজয়া দশমীর পুজা অর্চনা এবং সকল আন্ষ্ঠুানিকতা শেষ করে দুপুরের পর থেকে স্ব স্ব মন্ডপের প্রতিমাগুলো যানবাহনে করে নৌকায় তোলা হয়।
নওগাঁ শহর ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম উপজেলা থেকে এবং পাশ্ববর্তী বগুড়া জেলার সান্তাাহার থেকে বেশ কিছু প্রতিমা ভ্যান ও ট্রাকে করে নওগাঁ’র ছোট যমুনা নদীতে আনা হয়। প্রতিমাবাহি নৌকা ছাড়াও ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন সমুহের প্রায় ১ শতাধিক নৌকা নদীতে ভাসানো হয়। প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে চলতে থাকে নৌ বিহার। এসব নৌকায় ঢাকের শব্দ এবং মাইকের গানের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে এলাকা। এ সময় ছোট যমুনা নদীতে মনোরম দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর এমন দৃশ্য উপভোগ করেন।
এ উপলক্ষে নদীর দুইধারসহ পুরো শহর জুড়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় নৌবিহার শেষে সন্ধ্যায় দহের ঘাটে পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসমুহ বিসর্জন দেয়া হয়। অত্যন্ত শান্তিপূর্ন ভাবে এ বছরের মত শেষ হয় শারদীয় দূর্গোৎসব। এ উপলক্ষে সেখানে বসে এক গ্রামীন মেলা।উল্লেখ্য এ বছর জেলায় মোট ৭৪৮টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর মধ্যে নওগাঁ পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় ১১২টি, রানীনগর উপজেলায় ৪৮টি, আত্রাই উপজেলায় ৪৭টি, মান্দা উপজেলায় ১০৬টি, মহাদেবপুর উপজেলায় ১৪৮টি, বদলগাছি উপজেলায় ৯২টি, পত্নীতলা উপজেলায় ৭৬টি, ধামইরহাট উপজেলায় ২৭টি, পোরশা উপজেলায় ১৮টি, সাপাহার উপজেলায় ১৭টি এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৫৭টি।




