তারাগঞ্জের চিকলী নদীতে ব্রিজ নির্মাণসহ ভাঙনরোধে বাঁধের দাবী

রাহুল সরকার : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার চিকলী নদীতে ব্রিজ নির্মাণ ও ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন এলাকা পরিদর্শণকালে জানা যায়- তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর শাইলবাড়ী মাদ্রাসা ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘাটের পূর্বদিকে দর্জিপাড়া গ্রাম। ওই গ্রামে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ এবছর চার দফা বন্যায় ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ওই চিকলী নদীর আশপাশের ফসলী জমি, বসতবাড়ী ও কবরস্থান চিকলী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ওই দর্জিপাড়া গ্রাম থেকে ভীমপুর শাইলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র পথ ওই চিকলী নদীতে ব্রিজ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষসহ কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সাবেক প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান ও তারাগঞ্জ কলেজ মসজিদের ইমাম মন্তাজ উদ্দিন জানান- আমাদের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছি।
এ অবস্থায় নদীর ভাঙনরোধে বাঁধ এবং ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। শাইলবাড়ী মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ ছারোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান- চিকলী নদী ভাঙতে ভাঙতে দর্জিপাড়ার যাতায়াতের সড়কসহ কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকার মানুষজন আতঙ্কে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে ভীমপুর শাইলবাড়ী ও দর্জিপাড়ার অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভীমপুর শাইলবাড়ী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি আবুল হাসান বলেন, চিকলী নদীর ভাঙনরোধে বাঁধ ও ব্রিজ নির্মাণ প্রসঙ্গে মাননীয় সংসদ সদস্যসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্য ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বলেন, আগামী অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে ওই নদীর বাঁধ ও ব্রিজ নির্মাণে করতে সক্ষম হব।



