অপরাধশিরোনাম

ঘটনার বর্ণনায় যা জানালেন বেগমগঞ্জের নির্যাতিতা সেই নারী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার এক মাস পর যখন সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে উদ্ধার করা এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করাসহ পুলিশ র‍্যাবের নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে।
নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নারী পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নির্যাতনের মুখেও সম্ভ্রমটুকু রক্ষা করতে সক্ষম হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তের বর্ণনা তুলে ধরে আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ওই নারীকে আমরা একাধিকবার প্রশ্ন করেছিলাম, উনি বলেছেন যে, ওরা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি আমার সম্ভ্রমটা রক্ষা করতে পেরেছি। কিন্তু তারা এই ভিডিওটা করে ফেলেছে। এই ঘটনার পরও তারা আমাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেয় যে, তুমি এসব করো, তা না হলে ভিডিও ফাঁস করে দেবো। এবং শেষপর্যন্ত তারা ভিডিও ছেড়ে দিয়েছে।’
ঘটনার এতদিন পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিও’র মাধ্যমেই তা পুলিশের নজরে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গতকাল রোববার দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তাদের নজরে আসে। সেই ভিডিওকে ভিত্তি করে প্রথমে ঘটনাস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তারা।
আলমগীর হোসেন আরো জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল এবং এলাকার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে দুই-তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তারা নোয়াখালী সদরের একটি হাউজিং এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে উদ্ধার করতে পারেন। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেছেন, উদ্ধারের পর মানসিক বিপর্যয় কাটানোর জন্য ক্ষতিগ্রস্তকে প্রথমে কাউন্সিলিং করা হয়েছে। এরপর একটা পরিবেশ তৈরি হলে তখন তারা ঘটনা সম্পর্কে জেনেছেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তের কাছ থেকে।
‘উনি যে তথ্য বা বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে এটা এক মাস আগে অর্থাৎ গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পরে এশার নামাজের আগ মুহূর্তে ঘটনাটি ঘটেছে। ওনাকে আগে প্রলোভন দেয়া হয়, কুপ্রস্তাব দেয়া হয়, সেটাতে তিনি রাজি ছিলেন না। তখন এলাকার যারা এই কালপ্রিট, তারা টিনের ঘরের দুর্বল দরজা বাইরে থেকে লাথি দিয়ে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রবেশ করার পর ক্ষতিগ্রস্তের হাজবেন্ডকে মারধর করে একপাশে ফেলে রাখে। আর তার সাথে অবৈধ কাজ করার জন্য চেষ্টা করেছিল।’
‘কিন্তু ভিডিওটা দেখলেই বোঝা যায় এবং আমরা তাকে একাধিক বার প্রশ্ন করেছিলাম। উনি বলেছেন, আমাকে অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি সম্ভ্রমটা রক্ষা করতে পেরেছি।’
পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা ঘটনার ভিডিও করে পরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরো একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। এছাড়া আরো নানা রকম হুমকি দেয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী পুলিশকে কিছু জানায়নি।
তিনি বলেছেন, এখন ক্ষতিগ্রস্তের বর্ণনা অনুযায়ী দু’টি মামলা করা হয়েছে।
ভিডিও ভাইরাল করার জন্য একটি মামলা হয়েছে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। আরেকেটি মামলা হয়েছে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায়।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তকে শারীরিক নির্যাতন, মারধর এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া তার গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাদের চিহ্নিত করেছে, এমন ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার জন্য পুলিশ-র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button