শিরোনাম

গাইবান্ধা পৌরশহরের অপর বিড়ম্বনার নাম জলাবদ্ধতা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : টানা বৃষ্টিতে অলিগতিতে জমে গেছে পানি। বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামবে, এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। নেমেছেও। আর বৃষ্টির সৌন্দর্য মানুষের মনে শিল্পবোধ জাগিয়ে তোলাই স্বাভাবিক। কবি কবিতা লিখবেন, সুরকার সুর বাঁধবেন, গায়ক গান গাইবেন, চিত্রশিল্পী ছবি আঁকবেন-আর এভাবে দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি আরও ঋদ্ধ হয়ে ওঠবে, এমন প্রত্যাশা করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু এমন সৌন্দর্য উপভোগ যেন ভাগ্যে নেই গাইবান্ধাবাসীর। পৌর শহরে বৃষ্টির অপর নাম বিড়ম্বনা হয়ে আছে দীর্ঘকাল। সরেজমিন ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেখা গেছে, শহরের ব্যস্ততম ডিবি রোডের কাচারি বাজার, হাসপাতাল সড়ক, সিভিল সার্জনের কার্যালয় চত্ত্বর, খাঁ পাড়ায় গাইবান্ধা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন) রোড, মধ্যপাড়া স্কুল রোড, পলাশপাড়ায় গাইবান্ধা ক্লিনিকের সামনের সড়ক, কলেজ পাড়া, শাপলাপাড়ায় মায়া ক্লিনিকের সামনের সড়ক, সুখশান্তির বাজার, খানকাহ শরীফ রোড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এসব সড়কসহ আবাসিক এলাকাগুলোয় প্রায় হাঁটু পানি জমে। ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। শহরের কাচারি বাজার এলাকার আতোয়ার রহমান নামে একজন দোকানি বলেন, বৃষ্টিতে ময়লা-আবর্জনা সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব আরও বেশি করে ভোগাচ্ছে মানুষকে। এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার পিচ উঠে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ময়লা পানি পায়ে লেগে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাফি মিয়া নামে হাসপাতাল রোডের একজন ওষুধ বিক্রেতা।সুখনগর এলাকার সাখাওয়াৎ হোসেন নামে একজন বাসিন্দা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সুখনগর বাজারে মৎস্য কার্যালয়ের পাশের সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকে। যানবাহন উল্টে অনেকে আহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির জন্য নেই কোনো নালা। পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।শহরে প্রয়োজনীয় নর্দমা নেই বলে অভিযোগ করেছে গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, কিছু নালা থাকলেও সেগুলো সঠিক পরিকল্পনা করে নির্মাণ করা হয়নি। উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নর্দমাগুলো কোনো কাজে লাগছে না। গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় নতুন করে নর্দমা নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে শহরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button