ফুলবাড়িয়ায় রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই

দুই লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) আওতায় চলছে ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের ইউ ড্রেন নির্মাণের কাজ। এর ভিত্তি ঢালাইয়ের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট আর সুরকির সঙ্গে রড ব্যবহার করার কথা। কছ সেখানে রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের ফালি!
এ অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুদারবন্দ এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে এ অপকর্মের হোতা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী। লুটপাটের এমন মহোৎসবের ফন্দি ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
জানা গেছে, এ নিয়ে তোলপাড় শুরুর পর ইউপি সদস্য নিজের অপকীর্তি গোপন করতে শাবল দিয়ে ঢালাই ও বাঁশ তুলে নিয়ে যান। ভাইরাল হওয়া ছবির প্রেক্ষিতেই ইতোমধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ অভিযোগের তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কে এম গালিভ খান সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে রোববার একটি টেকনিক্যাল টিমকেও তিনি ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) আওতায় গত অর্থ বছরে উপজেলার আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২ টাকার ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গি-কান্দানিয়া সড়কের কালির চালা থেকে পান্নাবাড়ী সড়কে একটি ইউ ড্রেন নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয় স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীকে। শুক্রবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে ইউ ড্রেনের কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করতেই রডের পরিবর্তে তিনি বাঁশের ফালি ব্যবহার করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
অনিয়মের এ খবর প্রথমে ফাঁস হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শনিবার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালি ব্যবহারের ছবিটি স্থানীয় বায়েজিদ আহমেদ নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট করেন। এরপরেই এ বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
একই সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নের খাপসার খালে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়ম করেছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন। অবশ্য তিনি রড ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে বেইস ঢালাইয়ের কাজ সেরেছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দু’টি প্রকল্পের কাজেই নিম্নমানের ইট, বালু ও সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে উল্টো ইউপি সদস্যরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করেছেন। কিন্তু পুরো অনিয়মের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এখন তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী উল্টো নিজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন, পাশের বিলের পানি আটকানোর জন্যই না কী রডের পরিবর্তে তিনি বাঁশ ব্যবহার করেছেন। অভিযোগের পর সেই বাঁশ সরিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত করেছি। একটি তদন্ত প্রতিবেদন উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। এমন অনিয়মের কঠিন শাস্তিই নিশ্চিত করবো আমরা।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম গালিভ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরেজমিনে আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা যাওয়ার আগেই বাঁশ ও ঢালাই উঠিয়ে ফেলেছে।’
তিনি জানান, পাশের আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পেও বাঁশ বা রড ছাড়াই ঢালাই করা হয়েছে। এখানেও অনেক নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দেশ রূপান্তর।




