শিরোনামসাময়িকি

দেশভাগের যন্ত্রণা : ভিন্ন বয়ান

ইমানুল হক (কোলকাতা)
পশ্চিমবঙ্গে বাস করা লেখক শিল্পী নাট্যকার চলচ্চিত্রকাররা দেশভাগ ও উদ্বাস্তু যন্ত্রণা নিয়ে মূলত একপাক্ষিক বয়ান নির্মাণ করেছেন। পূর্ববঙ্গেও ভারত থেকে যাওয়াদের বেদনা নিয়ে তেমন নির্মাণ নেই।
ফলে মাশুল দিতে হচ্ছে।
এমনকী কলকাতা শহরেই কসবা টালিগঞ্জ গড়িয়া নাগেরবাজার হাতিবাগান বড়বাজার বেলেঘাটা মানিকতলা বাগমারী থেকে কত মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পূর্ব পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বা পার্ক সার্কাসে ঠাঁই নিয়েছেন তার তেমন সাহিত্য বা শিল্প বয়ান তৈরি হল না।
কেবল জয়া চ্যাটার্জি ও কিছুটা সেমন্তী ঘোষের বই ভরসা।
এর ফল কুড়োচ্ছে বিছে পার্টি।
অনেকেই বিশ্বাস করেন না, ১৯৪৬ এ কলকাতায় শতকরা ৪৪-৪৫% ‘মুসলিম’ বাস করতেন।
উল্টো ছবিটা ছিল ঢাকায় খুলনায় সাতক্ষীরায়।
৭০ লাখ মানুষ এসেছেন। বাধ্য হয়ে
৭২ লাখ মানুষ চলে গেছেন বাধ্য হয়ে।
কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারকেও কার্যত চ চলে যেতে হয় পেটের দায়ে।
১. ভাষাবিজ্ঞানী ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বসিরহাট
২. বিজ্ঞানী কুদরতে খোদা, মাড়গ্রাম, বীরভূম
৩. মনস্বী লেখক আনিসুজ্জামান, কলকাতা
৪. কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, বর্ধমান , যবগ্রাম কাটোয়া
৫. লেখক হায়াৎ মামুদ
৬. লেখক বদরুদ্দীন উমর, বর্ধমান
৭. কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান, হুগলি,। সাবলসিংহপুর
৮. কথাসাহিত্যিক শওকত আলী
৯. ভাষা শহিদ বরকত, সালার, মুর্শিদাবাদ
১০. ভাষা শহিদ শফিউর (কোন্নগর)
১১. শিল্পী আব্বাসউদ্দীন, কোচবিহার
১২. শিল্পী করিম শরাফি, বীরভূম, কলকাতা
১৩. চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান, বর্ধমান
১৪. লেখক সম্পাদক মীজানুর রহমান
১৫. লেখক মাহমুদুল হক,
১৬. লেখক কায়েস আহমেদ, হুগলি বড়তাজপুর
১৭. লেখক এস ওয়াজেদ আলী, হুগলি বড়তাজপুর
১৮. চলচ্চিত্র শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক, কলকাতা
১৯. শচীন দেববর্মণের জীবনীকার হুমায়ুন চৌধুরী
০. কোচবিহারের ইতিহাস লেখক আমানুল্লাহ খান
২১. শিল্পী কামাল আহমেদ, কলকাতা, পার্ক সার্কাস
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।
আরও বেশ কয়েকজন লেখক শিল্পী আছেন।
সৈয়দ হাসান ইমাম বাগেরহাটে পৈতৃক বাড়ি হলেও বেড়ে ওঠেন বর্ধমান শহরে।
‘বাংলার চালচিত্র’-র লেখক আবদুল জব্বার বাংলাদেশ গিয়েছিলেন। জনতা ব্যাংকে চাকরিও পান। দেশের টানে ফিরে আসেন।
বন্ধুরা আরও নাম যোগ করতে পারেন।
Jyotikrishna Chattopadhyay Uttarpara র সংযোজন:
আমার জেলা হুগলি জেলার অন্তর্গত বড়তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লেখক কায়েস আহমেদ। এই গ্রাম শ্রীরামপুর মহকুমার চণ্ডীতলা থানার অধীনস্থ একটি বর্ধিষ্ণু জনপদ। বেগমপুর ও বড়তাজপুর পাশাপাশি দুটি গ্রাম প্রধানত ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের বসবাস এই গ্রাম এলাকায়। বড়তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর একজন বিখ্যাত লেখক এস ওয়াজেদ আলী। যাঁর লেখা অনবদ্য ছোট গল্প “ভারতবর্ষ”। লেখক কায়েস আহমেদ এস ওয়াজেদ আলী র বংশেরই মানুষ। স্বাধীনতা ও দেশভাগের সময় কায়েস আহমেদ পূর্ব বাংলায় চলে যান। এছাড়াও আরও একজন বিখ্যাত লেখক মাহমুদুল হক দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলায় চলে যান। চলে যান কলকাতার মীজানুর রহমান, যাঁর বিখ্যাত রচনা ” কৃষ্ণ ষোলোই”।…. আরও কত মানুষ যে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পূর্ব বাংলায় চলে গিয়েছিলেন-তার হিসেব জানা নেই।
Touhid Hossain লিখছেন
আমাদের মুর্শিদাবাদে এরকম উদাহরণ অনেক।বলে শেষ করা যাবে না।শুধু আমার জঙ্গীপুর মহকুমার অসংখ্য নামের কয়েকটি, যেমন —
জঙ্গীপুরের তৎকালীন এসডিও খন্দকার আব্দুল হান্নান, যিনি ১৯৪৭ -এর ১৪-১৭ আগষ্ট পাকিস্তান পাওয়ার আনন্দে উত্তেজিত মানুষদের উদ্দেশে বলেছিলেন “পাকিস্তানের মাটিতে দাঙ্গা- হাঙ্গামা মোটেই সহ্য করা হবে না।দাঙ্গা হলেই গুলি চালানো হবে।”
কোটালপুকুরের জমিদার মোর্তুজা রেজা চৌধুরী।
মুসলিম লীগ করতেন বলে মান-সম্মানের ভয়ে রাতারাতি পাকিস্তান পাড়ি দিয়েছিলেন জেলা সভাপতি জাহিরুদ্দিন উকিল।
আমাদের গ্রাম জগতাইয়ের অশিক্ষিত দরিদ্র ঘরে বড়ো হওয়া দুজন কৃতী মানুষ যাঁরা বাধ্য হয়ে পাকিস্তান অপশন নিয়েছিলেন — হাওড়ায় জজের চাকরি পাওয়া সুজারুদ্দিন সাহেব এবং বর্ধমানের কোনও এলাকার পুলিশের সার্কেল অফিসার হেদায়েত সাহেব। তখন আমাদের গ্রামে যার যার বাড়িতে বৈঠকখানা ছিল সব দখল করে নিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তান থেকে চলে আসা রিফুজিরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের নামকরা অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ আমাদের এলাকার বেলতলা গ্রামের ছেলে। যে হাইস্কুলে পড়েছিলেন তার কর্তৃপক্ষ তাঁকে শিক্ষকতার যোগ্য মনে করেননি,ফলে দেশ ছেড়ে চলে যান।
Miraj Azad সংযোজন:
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র নায়ক রাজ রাজ্জাক কলকাতার নাকতলার বাসিন্দা। ১৯৬৪ র দাঙ্গার পর চলে যেতে বাধ্য হন।
বকতিয়ার হোসেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অফ বাংলাদেশ, হাসিনা যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন।
বখতিয়ার সাহেব মুর্শিদাবাদের ভরত পুরের বাসিন্দা।
(লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button