ঘূর্ণিঝড় আম্পান: বাগেরহাটে ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত হানার আশঙ্কায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে জেলার সুন্দরবন ও নদী বেষ্টিত উপজেলার বাসিন্দারা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। আশ্রয়কেন্দ্রে আসাদের মধ্যে বেশি রয়েছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধি। রাতে স্থানীয় প্রশাসন ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের মধ্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও মোমবাতি সরবরাহ করে।
বাগেরহাটে আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি নেই। জেলার নদ নদীগুলোতে পানির তেমন চাপ নেই। নদীগুলো শান্ত। বঙ্গোপসাগর ও নদীখালে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল থেকে উপকূলীয় এলাকার শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া শুরু হয়। জেলার নয় উপজেলায় মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় জেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয়রা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে পারে সেজন্য জেলায় ৯৭৭ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৭। আশ্রয়কেন্দ্রে জনসাধারণকে নিতে স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে ১১ হাজার ৭০৮ জন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। জেলার চার উপজেলার ৮৪ হাজার ৫০০টি গবাদি পশু রাখা যাবে। মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে ৮৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




