ডিজিটাল কিউআর কোডে যেভাবে সংক্রমণ ঠেকাচ্ছে চীন
বাড়ি থেকে রাস্তা। রাস্তা থেকে রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল। চীনের সাধারণ মানুষ এখন যেখানেই প্রবেশ করতে চান না কেন তাদের স্মার্টফোনে একটি আলো জ্বলছে। সবুজ মানে তার ঢোকার অনুমতি আছে। বাদামী বা লাল মানে ঢুকতে পারবেন না।
নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চীন সরকার এভাবে মোবাইল প্রযুক্তি এবং ডেটা ব্যবহার করে সংক্রমণ কমানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে রং-ভিত্তিক ‘হেলথ কোড’। যাকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় কুইক রেসপন্স কোড।
চীনের এই কৌশল দেখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
যেভাবে কাজ করে প্রযুক্তি: কিউআর বা কুইক রেসপন্স কোড মূলত এক ধরনের ম্যাট্রিক্স বা টুডি (দ্বিমাত্রিক) কোড। জাপানের জনপ্রিয় অটোমোবাইল কোম্পানি টয়োটার অধীনস্থ ডেনসো ওয়েব ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম কিউআর কোড নকশা করে।
চীন সরকার আলিবাবার ইন্টারনেট ‘বাবা’ এবং টেনসেন্টের ‘টেকি’ ব্যবহার করে হেলথ কোড পদ্ধতি জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যাপে হোস্ট করেছে।
আলিবাবার পেমেন্ট অ্যাপ ‘আলিপে’ এবং টেনসেন্টের মেসেজিং অ্যাপ ‘উইচ্যাট’ চীনে বহুল জনপ্রিয়। হেলথ কোড এই অ্যাপগুলোতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
কোড পেতে নাগরিকদের সাইন-আপ পেজে নিজের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর দিতে হচ্ছে। কোথায়, কোথায় তারা সম্প্রতি ভ্রমণ করেছেন, কোথায় ডাক্তার দেখিয়েছেন, কভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে গেছেন কি না এসব তথ্য নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনার উপসর্গের বক্সে টিক চিহ্ন দিতে হচ্ছে। সব তথ্য পূরণ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ভেরিফায়েড করলে একটি কিউআর কোড পাচ্ছেন ব্যবহারকারী।
যাদের কোডে লাল রং আসছে তাদের ১৪ দিনের জন্য সরকারি কোয়ারেন্টাইন অথবা হোম কোয়ারেন্টাইনে যেত হচ্ছে। বাদামি রং আসলে কোয়ারেন্টাইন হবে সাত দিন। যাদের সবুজ রং দেখাচ্ছে তারা শহরের যেকোনো জায়গায় আগের মতো মুক্তভাবে ঘুরতে পারছেন। কোড না থাকলে ঘর থেকে বের হলেই পুলিশ ধরছে।



