শিরোনামস্পটলাইট

সুপার পিংক মুন : এই চাঁদ কেমন এবং কীভাবে ও কখন তা দেখতে পাব?

এ সপ্তাহে পূর্ণিমার চাঁদ হবে এ বছরের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল চাঁদ।

এই চাঁদ কীভাবে দেখ যাবে তা নির্ভর করবে আবহাওয়া এবং আপনি পৃথিবীর কোন্ দেশে আছেন তার ওপর। বলা হচ্ছে মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল এবং বুধবার ৮ই এপ্রিলের মধ্যে এই চাঁদ আমরা দেখতে পাব।

যদিও এর নাম দেয়া হয়েছে সুপার পিংক মুন বা অতিকায় গোলাপি চাঁদ, কিন্তু এর রং আসলেই গোলাপি নয়।

তাহলে এই চাঁদের নাম সুপার পিংক মুন কেন?

এপ্রিল মাসের পূর্ণিমার চাঁদকে “সুপার” নাম দেয়ার কারণ আকাশে এই চাঁদের আকৃতি হবে বিশাল।

সুপারমুন হয় যখন চাঁদ পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে অর্থাৎ যখন কক্ষপথে চাঁদ পৃথিবীর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কাছাকাছি দিয়ে প্রদক্ষিণ করে।

চাঁদ যখন পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তখন তার এই কক্ষপথ বৃত্তাকার নয়। যেহেতু সেটা উপবৃত্তাকার কাজেই চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী পৃথিবীর থেকে তার দূরত্ব কম বেশি হয়। কখনও চাঁদ থাকে অনেক দূরে – কখনও অনেক কাছে।

চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের পয়েন্টে পৌঁছয় এবং সেটা যদি হয় পূর্ণিমার পূর্ণচাঁদ তখন তাকে বলা হয় সুপারমুন। অতি বৃহৎ চাঁদ।

নিউ ইয়র্কের আকাশে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পেছনে ইকুইনক্সের চাঁদ ২০শে মার্চ ২০১৯ সালে।
নিউ ইয়র্কের আকাশে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পেছনে ইকুইনক্সের চাঁদ ২০শে মার্চ ২০১৯ সালে।

এপ্রিল মাসের সুপারমুনের দূরত্ব হবে পৃথিবী থেকে ৩৫ লক্ষ ৭ হাজার কিলোমিটার দূরে। সাধারণত পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব হয় ৩৮ লক্ষ চার হাজার ৪০০ কিলোমিটার।

সুপার পিংক মুন কি আসলেই গোলাপি রঙের হবে?

না। আমেরিকার উপজাতিয় সংস্কৃতি সহ পৃথিবীর অনেক সংস্কৃতিতে, সারা বছর জুড়ে পূর্ণ চাঁদের নানা নামকরণ করা হয়েছে। হয়ত বছরের সময়ের হিসাব রাখার জন্য এই প্রথার প্রচলন হয়েছিল।

এপ্রিলের পূর্ণ চন্দ্রের নাম সেই হিসাবে গোলাপি চাঁদ বা পিংক মুন হলেও এই চাঁদের রং গোলাপি নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯শে ফেব্রুয়ারি হান্টিংটন সমুদ্র সৈকতে অস্তমিত সুপার স্নো মুন।
এটি গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার স্নো মুন

আমেরিকা ও কানাডায় এপ্রিল মাসে বসন্তের শুরুতে ফ্লক্স নামে একধরনের বুনো ফুল ফোটে যার রং গোলাপি আর সেখান থেকেই এপ্রিলের পূর্ণ চাঁদের নাম পিংক মুন।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এপ্রিলের পূর্ণ চন্দ্রের হরেক রকম নাম আছে- যেমন গ্রাস মুন (ঘাস-চাঁদ), এগ মুন (ডিম-চাঁদ) এবং ফিশ চাঁদ (মাছ-চাঁদ)।

সুপার পিংক মুন কি আমি দেখতে পাব?

নির্ভর করবে পৃথিবীর কোন্ দেশে আপনার বাস। যেমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার অনেক জায়গায় এই চাঁদ সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে বুধবার ৮ই এপ্রিল।

কিন্তু যারা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় থাকেন, এবং ইউরোপ ও আফ্রিকায় যাদের বাস তাদের জন্য এই চাঁদ দেখার সবচেয়ে ভাল সময় মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল থেকে।

আপনি পৃথিবীর যে দেশেই থাকুন না কেন, এই দুই তারিখের একদিন আগে বা পরেও আপনি সুপার মুনের দারুণ জ্যোতি ও দৃশ্য দেখতে পারবেন।

আপনি যেখানে আছেন সেখানে চাঁদ ওঠার ও অস্ত যাবার সময় জেনে নিন। আরও জেনে নিতে পারেন আপনার জন্য চাঁদ কোন দিকে যাচ্ছে সেই দিকের নিশানা।

ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির সুপার মুন
ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার মুন

জ্যোতির্বজ্ঞানীরা বলেন রাতের আকাশে ভাল করে চাঁদ দেখতে চাইলে ঘরের বাইরে থেকে তা দেখা উচিত। তবে এই সুপার পিংক মুন আপনি ঘরে বসেও দেখতে পারবেন। যদি না আপনার জানালার বাইরে উঁচু দালানকোঠা বা বিশাল গাছ প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

তবে হ্যাঁ- পৃথিবীর অনেক জায়গায় এখন করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলছে লকডাউন। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পরামর্শ না শুনে সরকারের পরামর্শ মেনে ঘরে বসেই চাঁদ দেখা হয়ত ভাল হবে।

এ মাসের পূর্ণ চন্দ্রের বিশেষত্ব

অসাধারণ ঔজ্জ্বল্য আর বিশাল আয়তন ছাড়াও এপ্রিল মাসের পূর্ণিমার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব।

খ্রিস্টানদের ইস্টার পালিত হবে পূর্ণিমার পরের রোববারে। সেইদিন দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের দৈর্ঘ্য হবে সমান যাকে বলা হয় বসন্তকালীন ইকুইনক্স।

ভারতের হিন্দুরা এই সময় উদযাপন করে হনুমান জয়ন্তী।

এপ্রিলের পূর্ণিমার দিন শুরু হয় ইহুদীদের পাসওভার।

বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button